ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াত নেতা নিহতের পর ঝিনাইগাতীতে থমথমে পরিস্থিতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের নিহতের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতীতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝিনাইগাতী এলাকাজুড়ে সুনসান নীরব পরিবেশ বিরাজ করছে। রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম। খুলেনি উপজেলা সদর বাজারের সব দোকানপাটও।
এদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মরদেহ এখনও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষ করে রেজাউল করিমের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। পরে বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তার জানাজায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহতের গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।


এ ঘটনায় বিএনপির এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াতের এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল একে অপরকে দোষারোপ করছেন। আর অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও বাগবিতন্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহত হয় উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। ওইসময় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদর বাজারের প্রধান রাস্তায় এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে অবস্থান নেয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করতে চেষ্টা করেন। এসময় বিএনপি নেতা আবু রায়হান রূপন ও ছাত্রদল নেতা শওকত হোসেন জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে তার নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারের মধ্যে দিয়েই বের হয়ে যেতে চাইলে কোন সুরাহা হয়নি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিএনপি প্রার্থী ও জামায়াত প্রার্থী দুজনের সমর্থকদেরই সরে যেতে অনুরোধ জানালেও তারা যার যার অবস্থান নিয়ে থাকেন। এরপর সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। ওইসময় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের আরও অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এসময় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন একজন সেনাসদস্যও। আহত সেনা সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। আর গুরুতর আহত অবস্থায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা রাত ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে শেরপুর জেলা শহর ও শ্রীবরদীতে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত। পরিস্থিতি উত্যপ্ত হয়ে উঠার আশঙ্কায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, বর্তমানে ঝিনাইগাতীসহ জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় একজন মারা গেছেন।
এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, গতকালের সেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত পরিচালনা করছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। আর গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত নেতা নিহতের পর ঝিনাইগাতীতে থমথমে পরিস্থিতি

প্রকাশিত : ১০:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের নিহতের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতীতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝিনাইগাতী এলাকাজুড়ে সুনসান নীরব পরিবেশ বিরাজ করছে। রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম। খুলেনি উপজেলা সদর বাজারের সব দোকানপাটও।
এদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মরদেহ এখনও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষ করে রেজাউল করিমের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। পরে বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তার জানাজায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহতের গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।


এ ঘটনায় বিএনপির এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াতের এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল একে অপরকে দোষারোপ করছেন। আর অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও বাগবিতন্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহত হয় উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী। ওইসময় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদর বাজারের প্রধান রাস্তায় এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে অবস্থান নেয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করতে চেষ্টা করেন। এসময় বিএনপি নেতা আবু রায়হান রূপন ও ছাত্রদল নেতা শওকত হোসেন জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে তার নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারের মধ্যে দিয়েই বের হয়ে যেতে চাইলে কোন সুরাহা হয়নি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিএনপি প্রার্থী ও জামায়াত প্রার্থী দুজনের সমর্থকদেরই সরে যেতে অনুরোধ জানালেও তারা যার যার অবস্থান নিয়ে থাকেন। এরপর সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। ওইসময় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের আরও অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এসময় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হন একজন সেনাসদস্যও। আহত সেনা সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। আর গুরুতর আহত অবস্থায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা রাত ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে শেরপুর জেলা শহর ও শ্রীবরদীতে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত। পরিস্থিতি উত্যপ্ত হয়ে উঠার আশঙ্কায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, বর্তমানে ঝিনাইগাতীসহ জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় একজন মারা গেছেন।
এ ব্যাপারে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, গতকালের সেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত পরিচালনা করছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। আর গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।