একসময় যিনি ব্যাংকের পর্ষদ সভায় হাজার কোটি টাকার ঋণের ফাইল সই করতেন, ৮৫ বছর বয়সে এসে তাকেই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো জামিনের আর্জি নিয়ে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। জামিন তো মিললই না, উল্টো হেলমেট আর হাতকড়া পরিয়ে তাকে পাঠানো হলো কারাগারে।
তিনি চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমান। ন্যাশনাল ব্যাংকের টাকা লোপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত এই শিল্পপতির বর্তমান ঠিকানা এখন হাসপাতালের কেবিন, তবে সেখানেও তিনি পুলিশি পাহারায়।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর আদালতে জামিন পাওয়ার আশায় আত্মসমর্পণ করেন খলিলুর রহমান। বার্ধক্যজনিত কারণ দেখিয়ে জামিন চাইলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর বিকেলেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে কারাগারে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে যায়। গ্রেপ্তারের পর সন্ধ্যায় খলিলুর রহমান হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে পুলিশ পাহাড়ায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার নিশ্চিত করেছেন যে রবিবার তাকে কারাগারে আনা হয়েছিল। হাসপাতালের কেবিনে থাকলেও কারাবিধি মেনেই তাকে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তার আইনজীবীরা আবারও জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দেন।
বয়সের ভারে নুব্জ এই শিল্পপতি এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হয়তো নিজের সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের হিসেব মেলাচ্ছেন। তবে আদালতের কঠোর অবস্থান বলছে, ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগ থেকে সহজে নিস্তার মিলছে না কেডিএস প্রধানের।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















