ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের আমগাছে এবার ব্যাপক হারে মুকুল এসেছে।
চলছে ফাল্গুন মাস। এরই মধ্যে সর্বত্র গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। সামান্য দৃষ্টি দিলেই চোখে পড়ে মুকুলে ছেয়ে আছে অসংখ্য আমগাছ। এভাবে ফাল্গুনের শুরুতেই গাছে গাছে প্রস্ফুটিত আমের মুকুল সর্বত্র ছড়াচ্ছে হাল্কা স্বর্ণালি আভা। এরই মধ্যে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন গাছেও একইভাবে উঁকি দিতে শুরু করেছে আম্রমুকুল। গাছে গাছে আগাম মুকুলের দেখা মেলায় কৃষকরা বেশ খুশি। তারা ইতোমধ্যে বাগানের পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন। তবে এবার মাঘের শুরু থেকে প্রস্ফুটিত হতে শুরু করেছে মুকুল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ধর্মপাশা গ্রাম, হলিদাকান্দা,মহদিপুর,কান্দাপাড়া ,সেলবরষ, ঘুলুয়া,রাজাপুর,পাইকুরাটি ও জয়শ্রী আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে মুকুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে। বাগানের গাছগুলোর যত্ন নিতে পরিশ্রম শুরু করে দিয়েছেন কৃষকরা । ভাল ফলনের আশায় জোরেশোরে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। এ অঞ্চলে ৩৫ থেকে ৪০ জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ফজলি, গোপালভোগ, মোহনভোগ, ল্যাংড়া, ক্ষীরসাপাত, হিমসাগর, কৃষাণভোগ, মলিস্নকা, লক্ষণা, আম্রপালি, দুধসর, দুধকলম, বিন্দাবনী, আরজান, রাণী পসন, মিশ্রিদানা, সিন্দুরী, আশ্বিনা সেই সঙ্গে নানা প্রকার গুটিআম। ডিসেম্বরের শেষদিক থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি অবধি বারোমাসি বা লোকাল জাতের আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়।
এবার জানুয়ারির শুরুতেই মুকুল আসা শুরু হয়েছে আগাম জাতের গাছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে মূলত আমগাছে মুকুল আসা শুরু হয়। এবার একটু আগেই প্রস্ফুটিত হচ্ছে আমের মুকুল। আবহাওয়া অনুকূলে অনুকূ থাকলে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে সব গাছে মুকুল দেখা যাবে বলে জানা যায়। প্রত্যেক বছরই কিছু গাছে আগাম মুকুল আসে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব মুকুলেও ভাল আম হবে।
সেলবরষ ইউনিয়নের জামাল মিয়া বলেন, এবার গাছে মুকুল ভালো এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হওয়ার আশা করছি।
রাজাপুর গ্রামের সবুজ মিয়া জানান, প্রতিটি মুকুল আমাদের জন্য সম্ভাবনা। ভালো ফলন হলে সংসারের খরচ, শিশুদের পড়ালেখা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, অন্যান্য আমের মুকুল আসা মানেই ফলনের সম্ভাবনার সূচনা। তবে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ফলন ভালো হতে পারে। কিন্তু ঝড় বা অকালবৃষ্টির কারণে মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষকদের সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















