ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যনগরে নদী পারাপারে বাঁশের চাটাই ভরসা সেতুর কাজ বন্ধ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৪০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কের সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাইত কান্দা  নামক স্থানে  সেতুর কাজ দীর্ঘ সাত বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মধ্যনগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলার লাখো মানুষ। যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সেতু না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের চাটাই ব্যবহার করে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, নদীর ওপর অস্থায়ীভাবে বাশের চাটাই বসিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলসহ সাধারণ মানুষ সেই চাটাই ব্যবহার করে নদী পার হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
মোটরসাইকেল আরোহী কালা মিয়া বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে সেতুর কাজ চলছে। আমাদের তিনটি ইউনিয়নের মানুষ এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করি। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ সবাই ভোগান্তিতে আছি। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করা প্রয়োজন। আরেক মোটরসাইকেল চালক জানান, বাঁশের চাটাই দিয়ে পার হওয়া সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। দুটি মোটরসাইকেল একসঙ্গে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, সেতুটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি মধ্যনগর ও তাহিরপুর অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলজিইডির সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি একনেক সভায় উদ্ব্দাখালী ও সোমেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ১৭ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ৮ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সোমেশ্বরী নদীর সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে উব্দাখালী নদীর সেতুটি চালু করা হলেও সোমেশ্বরী নদীর সেতু অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। তবে নতুনভাবে কাজ শুরু না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে ।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিয়া মোহাম্মদ নাছির জানান, তাহিরপুর ও মধ্যনগরে দুটি সেতুর কাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সম্পন্ন হয়েছে। তবে আর্থিক জটিলতার কারণে সোমেশ্বরী নদীর সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, সোমেশ্বরী নদীর সেতুর সেতুটি আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়েছে। তবে এ সেতুটির জন্য নতুন করে ধরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব শিগগিরি সেতুটির  কাজ করা শুরু হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে চালানো হয়েছে।  খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করি আগামী দু-এক মাসের মধ্যে সেতুটি পুনরায় কাজ শুরু।

কুলাউড়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন কাজ চলমান

মধ্যনগরে নদী পারাপারে বাঁশের চাটাই ভরসা সেতুর কাজ বন্ধ

প্রকাশিত : ০৭:৪০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কের সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাইত কান্দা  নামক স্থানে  সেতুর কাজ দীর্ঘ সাত বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মধ্যনগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলার লাখো মানুষ। যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সেতু না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের চাটাই ব্যবহার করে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, নদীর ওপর অস্থায়ীভাবে বাশের চাটাই বসিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলসহ সাধারণ মানুষ সেই চাটাই ব্যবহার করে নদী পার হচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
মোটরসাইকেল আরোহী কালা মিয়া বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে সেতুর কাজ চলছে। আমাদের তিনটি ইউনিয়নের মানুষ এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করি। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ সবাই ভোগান্তিতে আছি। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করা প্রয়োজন। আরেক মোটরসাইকেল চালক জানান, বাঁশের চাটাই দিয়ে পার হওয়া সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। দুটি মোটরসাইকেল একসঙ্গে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, সেতুটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি মধ্যনগর ও তাহিরপুর অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলজিইডির সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি একনেক সভায় উদ্ব্দাখালী ও সোমেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ১৭ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ৮ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সোমেশ্বরী নদীর সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে উব্দাখালী নদীর সেতুটি চালু করা হলেও সোমেশ্বরী নদীর সেতু অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। তবে নতুনভাবে কাজ শুরু না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে ।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিয়া মোহাম্মদ নাছির জানান, তাহিরপুর ও মধ্যনগরে দুটি সেতুর কাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সম্পন্ন হয়েছে। তবে আর্থিক জটিলতার কারণে সোমেশ্বরী নদীর সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, সোমেশ্বরী নদীর সেতুর সেতুটি আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়েছে। তবে এ সেতুটির জন্য নতুন করে ধরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব শিগগিরি সেতুটির  কাজ করা শুরু হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে চালানো হয়েছে।  খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করি আগামী দু-এক মাসের মধ্যে সেতুটি পুনরায় কাজ শুরু।