চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে প্রায় সাড়ে দেড় হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে রেখেছে সমস্ত আস্তানা।
সোমবার (৯ মার্চ) ফজরের নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে ঢুকতে শুরু করে যৌথ বাহিনী।
অভিযানে ৫৫০ সেনাবাহিনী, ১৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব, ১২০ বিজিবি, ১৫ এপিসি, ৩টি ডগ স্কোয়াড ও ৩টি হেলিকপ্টার রিজার্ভ অংশ নিয়েছে।
গত ২ দুই যুগ ধরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে রয়েছে। ২০১৭ এবং ২০২২ সালেও প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করতে চেষ্টা করেও বিভিন্ন অজুহাত এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাছে হার মেনে ব্যর্থ হয়েছে। এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সন্ত্রাসের প্রতি জিরো টলারেন্স এবং কঠোর বার্তা প্রদানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান চলছে।

সম্প্রতি এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হয় এবং তিনজন আহত হয়। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির রহস্য উদঘাটনে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানার তথ্য উঠে আসে।
ফজরের নামাজের আগেই কঠোর গোপনীয়তায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর অন্তত দেড় হাজার সদস্য একযোগে অভিযানে নেমেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত বড় আকারের সমন্বিত অভিযান আর দেখা যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শুরু হওয়া এই কঠোর অভিযান সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান, ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত অনেক সন্ত্রাসীর বসবাস রয়েছে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। কয়েকটি গ্রুপ এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ ও রিদোয়ান গ্রুপ। এদের মধ্যে ইয়াসিন গ্রুপকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এলাকার বেশিরভাগ অংশ তাদের দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরকে অনেকেই ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। চট্টগ্রাম শহর থেকে সেখানে যেতে সময় লাগে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট। বায়েজিদ লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়ি রয়েছে, যেখানে অন্তত এক থেকে দেড় লাখ মানুষের বসবাস। বাসিন্দাদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে বসতি গড়েছেন।
এলাকাটি পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন ছিল। সেই সুযোগে এটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















