কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন মুরগি পট্টিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একই ড্রামের কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করা হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
শনিবার (২ মে) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে সদর বাজার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চালার নিচে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে চলছে মুরগি ড্রেসিংয়ের কাজ। এক শ্রমিক বড় ড্রামের গরম পানিতে মুরগি চুবিয়ে পালক ছাড়াচ্ছেন। পাশেই পড়ে আছে ময়লাযুক্ত ড্রেসিং মেশিন ও ঝাড়ু। কাদা-পানিতে ভরা মেঝেতে বসেই মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে। একই ড্রামের পানিতে বারবার মুরগি ধোয়া হলেও পানি পরিবর্তনের কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
সরেজমিনে বাজারের ১৫ থেকে ২০টি দোকানে একই চিত্র দেখা যায়। প্রতিটি দোকানে সকাল ৭টায় গরম করা পানি দিয়েই সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ থেকে ৩০০টি মুরগি ড্রেসিং করা হয়। দীর্ঘসময় ব্যবহারের ফলে পানির রঙ কালো হয়ে যায়। পানিতে ভাসতে দেখা যায় রক্ত, পালক ও নাড়িভুঁড়ির অংশ। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন,“বারবার পানি বদলাইতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও লাগে। তাই সকালের পানিই সারাদিন ব্যবহার করি। বাজারের প্রায় সবাই এভাবেই করে।”
বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন,“চোখের সামনে দেখলাম কালো পানিতে মুরগি ধোয়া হচ্ছে। গন্ধে দাঁড়ানোই দায়। বাসায় নিয়ে আবার গরম পানি, লবণ আর ভিনেগার দিয়ে ধুতে হয়। তারপরও ভয় লাগে।”

গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, “বাজারের প্রায় সব দোকানেই একই অবস্থা। উপায় না থাকায় কিনতে হয়। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা এমনটা করতে পারত না।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন,“বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন বলেন,“জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রমই বরদাশত করা হবে না। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করা হলেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি জোরদার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 

















