রাজধানীতে ইদানীং মশার উপদ্রব অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী আক্ষরিক অর্থেই ‘নাকানিচুবানি’ খাচ্ছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ— দুই সিটি কর্পোরেশন বছরজুড়ে নানা উদ্যোগ নিলেও মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। ডিজেলের অভাবে মশা মারার প্রধান কার্যক্রম ‘ফগিং’ বা ওষুধের ধোঁয়া ছিটানো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহৃত ফগিং মেশিনের জন্য প্রচুর পরিমাণে ডিজেল প্রয়োজন হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় সোয়া তিন লাখ লিটার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) দুই লাখ লিটার ডিজেলের জরুরি চাহিদা রয়েছে। প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি সংগ্রহ করতে দুই সিটি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন।
কীটনাশক সরবরাহকারীরা জানিয়েছেন, মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের সঙ্গে মেশানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ডিজেল সংকটে ফগিংয়ের ধোঁয়া বন্ধ হলে মশার উপদ্রব কল্পনাতীতভাবে বেড়ে যেতে পারে। ভুক্তভোগী অনেকেই রসিকতা করে বলছেন, সামনে হয়তো মশার ‘স্বর্ণযুগ’ আসছে, যেখানে তারা নির্বিঘ্নে মানুষকে কামড়ানোর উৎসব করবে!

মজুত শেষ পর্যায়ে, ডিজেলের জন্য হাহাকার
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ১১০০ লিটার ডিজেল মিশ্রিত মেলাথিয়ন প্রয়োজন হয়। বর্তমানে তাদের কাছে যে পরিমাণ মেলাথিয়ন মজুত আছে, তা দিয়ে বড়জোর আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত কাজ চালানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে, ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডেও একই পরিস্থিতি। তাদের মজুত দিয়েও চলতি মাসের বেশি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে, উড়ন্ত মশা দমনের প্রধান কীটনাশক ‘ম্যালাথিয়ন ৫% আরএফইউ’ তৈরির জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৬ লিটার ডিজেল চেয়ে ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এম আর এন্টারপ্রাইজ।
তাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, এই কীটনাশক তৈরির প্রধান উপাদানই হলো ডিজেল (প্রায় ৯০.৮৬ শতাংশ)। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সরকার ডিজেল সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করায় তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীটনাশক প্রস্তুত ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মশক নিধন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জনস্বার্থ বিবেচনা করে তারা পদ্মা, মেঘনা বা যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে এই পরিমাণ ডিজেল পাওয়ার জন্য ডিএনসিসি প্রশাসনের সুপারিশ ও সহযোগিতা চেয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























