ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ: সাতক্ষীরায় শয্যাসংকটে হাসপাতালের বারান্দায় শিশুরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে
 সাতক্ষীরায় ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুদের সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ২৩ দিনে জেলা সদর হাসপাতালে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৩২ শিশু। একই সময়ে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ২৪২ জন। রোগীর আকস্মিক চাপে শয্যাসংকট দেখা দেওয়ায় অনেক শিশুকে হাসপাতালের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩ দিনে ১ হাজার ১৩২ জন শিশু সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৬৭ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২ জন চিকিৎসাধীন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী আসায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা না পেয়ে অনেক অভিভাবক তাঁদের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের মেঝে বা বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের সবুজ গাজী তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মাহিম হুসাইনকে নিয়ে তিন দিন ধরে বারান্দায় আছেন। তিনি বলেন, “জ্বরের সঙ্গে বাচ্চার খিঁচুনি শুরু হওয়ায় দ্রুত এখানে আনি। কিন্তু বেড খালি না থাকায় বারান্দার মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে আটুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ক্ষেত্রেও। তাঁর সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে আজমিরাকে শয্যা ছাড়াই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শ্যামনগর ও সদর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা অনেক অভিভাবকই এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ হাসান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়টা শিশুদের জন্য বেশ সংবেদনশীল। তিনি বলেন, “ঠান্ডা-গরমের তারতম্য এবং আবহাওয়ার অস্থিরতার কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো অভিভাবক সচেতনতা। অনেকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না নিয়ে ঘরে বসে থাকেন, যার ফলে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে যখন আসেন, তখন রোগটি জটিল বা নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়।”
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে এবং সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চিকিৎসকরা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো হঠাৎ গরম বা হঠাৎ ঠান্ডা থেকে শিশুকে রক্ষা করতে হবে। রোদ থেকে ফিরে সরাসরি এসি বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না। শিশুর হাত ধোয়ার অভ্যাস করা এবং খাওয়ার আগে ও মলত্যাগের পর সাবান ব্যবহার নিশ্চিত করা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুকে প্রচুর পানি, তরল খাবার ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল খাওয়ানো। শিশুর উচ্চ তাপমাত্রা, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, বুক দেবে যাওয়া বা খিঁচুনি দেখা দিলে কবিরাজি বা হাতুড়ে চিকিৎসার অপেক্ষা না করে সরাসরি হাসপাতালে নিতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সেবা স্বাভাবিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিকার ও প্রাথমিক সচেতনতাই হতে পারে শিশুদের সুরক্ষাকবচ।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবির নতুন এডহক কমিটি

শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ: সাতক্ষীরায় শয্যাসংকটে হাসপাতালের বারান্দায় শিশুরা

প্রকাশিত : ০৯:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
 সাতক্ষীরায় ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুদের সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ২৩ দিনে জেলা সদর হাসপাতালে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৩২ শিশু। একই সময়ে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ২৪২ জন। রোগীর আকস্মিক চাপে শয্যাসংকট দেখা দেওয়ায় অনেক শিশুকে হাসপাতালের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩ দিনে ১ হাজার ১৩২ জন শিশু সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৬৭ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২ জন চিকিৎসাধীন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী আসায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা না পেয়ে অনেক অভিভাবক তাঁদের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের মেঝে বা বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের সবুজ গাজী তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মাহিম হুসাইনকে নিয়ে তিন দিন ধরে বারান্দায় আছেন। তিনি বলেন, “জ্বরের সঙ্গে বাচ্চার খিঁচুনি শুরু হওয়ায় দ্রুত এখানে আনি। কিন্তু বেড খালি না থাকায় বারান্দার মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে আটুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ক্ষেত্রেও। তাঁর সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে আজমিরাকে শয্যা ছাড়াই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শ্যামনগর ও সদর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা অনেক অভিভাবকই এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ হাসান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়টা শিশুদের জন্য বেশ সংবেদনশীল। তিনি বলেন, “ঠান্ডা-গরমের তারতম্য এবং আবহাওয়ার অস্থিরতার কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো অভিভাবক সচেতনতা। অনেকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না নিয়ে ঘরে বসে থাকেন, যার ফলে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে যখন আসেন, তখন রোগটি জটিল বা নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়।”
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে এবং সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চিকিৎসকরা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো হঠাৎ গরম বা হঠাৎ ঠান্ডা থেকে শিশুকে রক্ষা করতে হবে। রোদ থেকে ফিরে সরাসরি এসি বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না। শিশুর হাত ধোয়ার অভ্যাস করা এবং খাওয়ার আগে ও মলত্যাগের পর সাবান ব্যবহার নিশ্চিত করা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুকে প্রচুর পানি, তরল খাবার ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল খাওয়ানো। শিশুর উচ্চ তাপমাত্রা, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, বুক দেবে যাওয়া বা খিঁচুনি দেখা দিলে কবিরাজি বা হাতুড়ে চিকিৎসার অপেক্ষা না করে সরাসরি হাসপাতালে নিতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সেবা স্বাভাবিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিকার ও প্রাথমিক সচেতনতাই হতে পারে শিশুদের সুরক্ষাকবচ।