গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে ঈদ যাত্রায় মানুষের ঢল নেমেছে। ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কে ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনগুলি গাজীপুরের দুটি মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও মিলছেনা বাস। যাও পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তীব্র যানজট সমস্যা সমাধান করতে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গাজীপুর জেলাসহ আশেপাশের এলাকার গার্মেন্টস কারখানাগুলো আজ ছুটি হওয়ায় রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। ভোররাত থেকেই উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা রাস্তায় নামতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ঢল নেমে যায়। এসময় রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তীব্র যানজট দেখা দেয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গের ২৫ জেলার একমাত্র প্রবেশপথ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ১০/ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সাভার নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত বাইপাইল, আশুলিয়া জিরানী, শ্রীপুর, বাড়ইপাড়া হয়ে চন্দ্রা থেকে মির্জাপুর টাঙ্গাইল পাড় হয়েও দীর্ঘ যানজট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া জয়দেবপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত রয়েছে তীব্র যানজট। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় যানবাহনের অভাবে বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের রাস্তায় ভিজতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বাস থেমে থাকার কারনে প্রচুর পরিমাণ লোকজনকে হেঁটে যেতে গেছে। এদিকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা কোনাবাড়ী থেকে ঢাকাগামী যানবাহন উল্টো পথে চলার কারণে প্রতি স্টেশনেই যানজট লেগেছিল।
অপরদিকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কেড় বোর্ড বাজার ভোগরা বাইপাস হয়ে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে সালনা, মাওনা, ভালুকা পর্যন্ত প্রত্যেক স্টেশনে যাত্রী উঠাতে পরিবহনগুলো বেশির ভাগ যানজট সৃষ্টি করছে। গার্মেন্টসগুলো একসাথে ছুটি হওয়ায় আজ মহাসড়কে মানুষের ঢল নেমেছে।
পরিবহন কোম্পানি গুলোর পর্যাপ্ত বাস না থাকায় ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার কারনে সাধারণ যাত্রীরা খরচ বাচাতে ট্রাকে ও পিকাপে করে রওনা দেন। এসময় যাত্রীরা জানান, বাসে অতিরিক্ত ভাড়ার চেয়ে ট্রাক পিকাপে ভাড়া তুলনামূলক কম তাই ট্রাকে করে রওনা হয়েছি। গার্মেন্টসে চাকুরী করে আয় হয়, ঈদে বাড়ীতে পরিবারের সাথে কোরবানি দিতে আনন্দ ভাগাভাগি করাই মুলত উদ্দেশ্য। এজন্য কষ্ট করে হলেও বাড়ীতে যেতে চাই।
তবে বিকেল নাগাদ থেমে থেমে যানবাহন চললেও একটা স্টেশন পাড় হতে ২/৩ ঘন্টাও সময় লেগে যাচ্ছিল। হাইওয়ে পুলিশও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে ট্রাফিক টিম যানজট নিরসনে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সওগাতুল ইসলাম জানান, আজকে সকল গার্মেন্টস কারখানা একত্রে ছুটি হয়ে যাওয়ার কারনে যাত্রীদের চাপ অতিরিক্ত হয়ে গেছে এবং অতিরিক্ত যানবাহনের ধাক্কা সামলাতে কাজ করতে হচ্ছে। সন্ধ্যা নাগাদ এই যানজট কমে যাবে আশা করছি।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















