ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

দুমকিতে দিন দিন বাড়ছে বোরো ধানের আবাদ- সময়মতো পানি না পাওয়ায় ব্যয় বাড়ছে চাষাবাদে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৪০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

জাহিদুল ইসলাম, দুমকি(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীর দুমকিতে বোরো ধানের আবাদ বাড়ছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বোরো ধান চাষে।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কম বেশি বোরো ধানের আবাদ হলেও লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া, কার্তিকপাশা ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাদুয়া শ্রীরামপুর এলাকায় বেশি পরিমাণ বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এসব এলাকায় পৌষের শেষের দিকে বীজ তলায় চারা করে মাঘ মাসের মাঝামাঝি মূল জমিতে রোপণ করা হয়েছে। কৃষকরা আগাছা নিধন, সার কীটনাশক প্রয়োগ ও পানি সেচ দিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেতেই গাড় সবুজের সমারোহে ভরে গেছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জমিতে ধান বেড়িয়েছে। আবার কোন কোন প্লটে গামর আসতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১১ হেক্টর। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অনেক বেশি পরিমাণ চাষাবাদ হয়েছে বলে জানা যায়।


সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার কার্তিক পাশা, আঠারো গাছিয়া, শ্রীরামপুর, বাদুয়া শ্রীরামপুর, মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া ও পাঙ্গাশিয়া এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে দিন দিন বোরো ধান চাষে ঝুঁকছেন তারা। পানি সংকট থাকার পরেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কার্তিক পাশা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমি ১’শ শতাংশ জমিতে বোরো ব্রি- ধান ৮৯ ও ৭৪ জাতের চাষাবাদ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার আরো বেশি ফলন হবে বলে আশা করি। গত বছর স্হানীয় মাপের প্রতি কড়া জমিতে ৩ কাঠি ধান হয়েছিল। তবে এ বছর আরো বেশি ফলন হবে বলে আশা করি। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা অপর এক কৃষক কৃষিবিদ শুভঙ্কর চন্দ্র শীল বলেন, এবছর ৫০শতাংশ জমিতে বোরো ব্রি- ধান ৭৪ ও ৮৯ চাষ করেছি। ইতিমধ্যে আমার রোপার কায়স্তর বের হয়েছে। আশাকরি ফলন ভালো হবে। আমাদের এ অঞ্চলে বর্ষার সময় পানি জলাবদ্ধতার কারণে আমনের চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়ে এবং শুস্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষে পানি সেচ দিতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে আবেদন, যাতে দ্রুত অত্র এলাকার মরা খাল খনন করা হয়।
আঠারোগাছিয়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক কবির হোসেন সিকদার বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে আমি বোরো ধান চাষ করে আসছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শক্রমে চলতি মৌসুমেও ১’শ শতাংশ জমিতে বোরো ব্রি- ধান ১০১ চাষ করেছি। আশাকরি গতবারের চেয়ে আরো বেশি ফলন হবে।
এসব এলাকার অন্যান্য কৃষকরা জানান, স্হানীয় খালগুলো কালের বিবর্তনে মরা খালে পরিণত হওয়ায় এবং পানির অভাবে বিড়াম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক দুর থেকে পাপ লাইন ও বিদ্যুৎ লাইন টেনে পানি সরবরাহ করতে খরচ বেড়ে গেছে। অপরদিকে সরকারি ভাবে ট্রাক্টর সরবরাহ করলে যথাসময়ে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, সরেজমিনে এসে আমরা নিয়মিত ভাবে বোরো ধান চাষিদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি ও পরামর্শ দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন বলেন, কৃষি প্রনোদনার আওতায় ৫০ জন কৃষকের হাইব্রিড ও ৫০ জন কৃষকের মাঝে উফসি মোট ১’শ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার দেওয়া হয়েছে। বোরো ধান চাষে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি এবং নিয়মিত কৃষকদের উৎসাহিত করছি। কিন্তু বোরো ধান চাষে প্রধান সমস্যা হচ্ছে পানি। আমাদে খালগুলো বন্ধ থাকার কারনে কৃষকরা সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারায় বোরো ধান চাষে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি খাল খনন ও স্লূইস গেট গুলো মেরামত করা হয়। তবে সকল প্রকার ফসল উৎপাদন সহজ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার ঢাকাসহ ৪ সিটিতে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে

দুমকিতে দিন দিন বাড়ছে বোরো ধানের আবাদ- সময়মতো পানি না পাওয়ায় ব্যয় বাড়ছে চাষাবাদে

প্রকাশিত : ০৬:৪০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

জাহিদুল ইসলাম, দুমকি(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীর দুমকিতে বোরো ধানের আবাদ বাড়ছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বোরো ধান চাষে।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কম বেশি বোরো ধানের আবাদ হলেও লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া, কার্তিকপাশা ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাদুয়া শ্রীরামপুর এলাকায় বেশি পরিমাণ বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এসব এলাকায় পৌষের শেষের দিকে বীজ তলায় চারা করে মাঘ মাসের মাঝামাঝি মূল জমিতে রোপণ করা হয়েছে। কৃষকরা আগাছা নিধন, সার কীটনাশক প্রয়োগ ও পানি সেচ দিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেতেই গাড় সবুজের সমারোহে ভরে গেছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জমিতে ধান বেড়িয়েছে। আবার কোন কোন প্লটে গামর আসতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১১ হেক্টর। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অনেক বেশি পরিমাণ চাষাবাদ হয়েছে বলে জানা যায়।


সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার কার্তিক পাশা, আঠারো গাছিয়া, শ্রীরামপুর, বাদুয়া শ্রীরামপুর, মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া ও পাঙ্গাশিয়া এলাকায় বোরো ধানের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে দিন দিন বোরো ধান চাষে ঝুঁকছেন তারা। পানি সংকট থাকার পরেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কার্তিক পাশা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমি ১’শ শতাংশ জমিতে বোরো ব্রি- ধান ৮৯ ও ৭৪ জাতের চাষাবাদ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার আরো বেশি ফলন হবে বলে আশা করি। গত বছর স্হানীয় মাপের প্রতি কড়া জমিতে ৩ কাঠি ধান হয়েছিল। তবে এ বছর আরো বেশি ফলন হবে বলে আশা করি। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা অপর এক কৃষক কৃষিবিদ শুভঙ্কর চন্দ্র শীল বলেন, এবছর ৫০শতাংশ জমিতে বোরো ব্রি- ধান ৭৪ ও ৮৯ চাষ করেছি। ইতিমধ্যে আমার রোপার কায়স্তর বের হয়েছে। আশাকরি ফলন ভালো হবে। আমাদের এ অঞ্চলে বর্ষার সময় পানি জলাবদ্ধতার কারণে আমনের চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়ে এবং শুস্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষে পানি সেচ দিতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে আবেদন, যাতে দ্রুত অত্র এলাকার মরা খাল খনন করা হয়।
আঠারোগাছিয়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক কবির হোসেন সিকদার বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে আমি বোরো ধান চাষ করে আসছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শক্রমে চলতি মৌসুমেও ১’শ শতাংশ জমিতে বোরো ব্রি- ধান ১০১ চাষ করেছি। আশাকরি গতবারের চেয়ে আরো বেশি ফলন হবে।
এসব এলাকার অন্যান্য কৃষকরা জানান, স্হানীয় খালগুলো কালের বিবর্তনে মরা খালে পরিণত হওয়ায় এবং পানির অভাবে বিড়াম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক দুর থেকে পাপ লাইন ও বিদ্যুৎ লাইন টেনে পানি সরবরাহ করতে খরচ বেড়ে গেছে। অপরদিকে সরকারি ভাবে ট্রাক্টর সরবরাহ করলে যথাসময়ে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, সরেজমিনে এসে আমরা নিয়মিত ভাবে বোরো ধান চাষিদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি ও পরামর্শ দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন বলেন, কৃষি প্রনোদনার আওতায় ৫০ জন কৃষকের হাইব্রিড ও ৫০ জন কৃষকের মাঝে উফসি মোট ১’শ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার দেওয়া হয়েছে। বোরো ধান চাষে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি এবং নিয়মিত কৃষকদের উৎসাহিত করছি। কিন্তু বোরো ধান চাষে প্রধান সমস্যা হচ্ছে পানি। আমাদে খালগুলো বন্ধ থাকার কারনে কৃষকরা সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারায় বোরো ধান চাষে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি খাল খনন ও স্লূইস গেট গুলো মেরামত করা হয়। তবে সকল প্রকার ফসল উৎপাদন সহজ হবে।