নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পার হলেও একটি ব্রীজের অভাবে তিস্তা পারের মানুষের শিক্ষা স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন হয়নি ফলে স্বাস্থ্য যোগাযোগ, চিকিৎসা সহ সকল সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত তিস্তার পার সহ চরঞ্চলের মানুষ।
উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী তিস্তা ও বুড়ি তিস্তার নদী বাহিত ৪টি ইউনিয়ন গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারীর তিস্তার চরে বসবাসকারী পরিবার গুলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নদীপথে বর্ষাকালের বাহন নৌকা আর শুস্ক মৌসুমে কাঠের ব্রীজ বা বাশেঁর সাকো।
ফলে চর এলাকায় কোনও পাকারাস্তা ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকায় অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় চরবাসীর।
এ এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত পানি শুন্য তিস্তা নদীর বুকে জেগে ওঠেছে ধু ধু রুপালী বালুচর।
আর বর্ষার সময়ে বন্যায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ভূমিহীন কৃষকেরা বর্তমান পানি শুন্য তিস্তায় বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
এক সময় তিস্তা নদীতে ছিল তাদের সুখ আর বর্তমানে দুঃখের কারণ, এখন সেই নদীর বালু চরের পলিযুক্ত বেলে দো-আঁশ মাটিতে এসব নিঃস্ব খেটে খাওয়া মানুষ নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্নের বিভিন্ন ফসল বুনে তা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ফলিয়ে ঘরে তুলে অভাব দূর করছেন।
তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার।
এমনকি অভাব-অনটন ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।
এখন সেখানে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে সে চিত্র বদলে দিয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষ।
নদীর ছোট-বড় চরগুলোতে ফলাচ্ছে গম, কাউন, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি আলু, তিল, তিসি, পেঁয়াজ, রসুন, লাউ,গাজর, মরিচ, হলুদ, শসা, সিম কুমড়া ও বিভিন্ন জাতের ডাল ফসল মাসকালাই, খেসারি, ছোলা সহ প্রচুর পরিমাণে আবাদ হচ্ছে এখন শাকসবজি।

ভাবনচুর চরের আনিছুর রহমান জানান, ৪/৫ বছর আগে নদী ভাঙ্গনে জমি জায়গা হারিয়ে বাধে আশ্রয় নিয়ে ছিলাম।সংসারে খুব অভাব-অনটন ছিল, কাজকর্মও ছিলনা।বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জেগে ওঠা চরে ভুট্টা, আলু ও সবজি চাষ করে এখন আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। বাড়ির আঙিনায় মাথা উঁচু করলেই এখন তিনি দেখতে পান স্বপ্নের ফসল সবুজের সমারোহ ক্ষেত।
ডাউয়াবাড়ীর বড়বাধ এলাকার কাশেম বলেন তিস্তার বালুচরে ফসল ফলানো যাবে এটি স্বপ্নেও ভাবেনি। এখন বালুচরে ফসল আবাদ করে আমার অভাবের সংসারে সচলতা এসেছে ।
এদিকে প্রতি বছরই বাড়ছে চরের পরিধি। সেই সাথে বাড়ছে ফসলের ফলন। লাভের টাকা হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এলাকার কৃষকেরা।
তবে চর এলাকায় স্বাধীনতার ৫০ বছরেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত না হওয়ায় বসবাসরত চরাঞ্চলের এই মানুষগুলোর স্বাস্থ্যসেবার জন্য নেই কোনো মানসম্মত কমিনিউটি ক্লিনিক,ছেলেমেয়েরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের ছেলেমেয়েদের লেখা পড়ার জন্য নেই কোনও মানসম্মত হাই স্কুল- মাদরাসা কলেজ।
অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় স্বজনদের কাধে করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সহ হাসপাতালে যেতে হয়।
চরবাসীর দাবি, সারা দেশের মত আমাদের নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের এ চর এলাকায় রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন উন্নয়নের দিক থেকে আমরা বঞ্চিত রয়েছি।এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে ও উপজেলা সদর যাতায়াতে খুবকষ্ট হয়। তাছাড়া বন্যায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব হয় না।ফলে অনেক রোগী চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নরর নেকবক্ত বাজার সংলগ্ন বুড়িতিস্তা নদীর মন্থনা ঘাটের ওপর সেতু নির্মাণ এবং রাস্তাঘাট হলে তারা এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতেন।তিস্তা পারের গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাট গুলোতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন চরবাসি।তিস্তার পার এলাকার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বৃন্দ বলেন, ওই এলাকা সমুহে উন্নয়ন করার জন্য এবং কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েছি,।
জানাযায় বিগত সরকারের সময়ে জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন নেকবক্ত বাজার এলাকার মন্থনা ঘাটের বুড়ি তিস্তা নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য সকল পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে একনেক সভায় বাজেট সহ অনুমেদন পায়। কিন্তু চুুড়ান্ত ভাবে কাজ শুরুর জন্য প্রধান মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন । পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠালে সেখানে অদৃশ্য শক্তির কারনে ফাইলটি প্রধান মন্ত্রীর সামনে যাযনি।তাই আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে পারছে না ১০ বছর ধরে। এলাকাবাসী জানেনা কবে কাজ শুরু হব।বা হবে কিনা।তাভ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















