ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় দুইদিন যাবৎ রোদ উঠায়, ধান শুকাতে কর্মব্যস্ত হাওরের কৃষক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় গত টানা ৬ দিনের বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা জুড়ে রোদ উঠেছে। এতে বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দুর্যোগের ভয় কাটেনি এখনও।
গত ১০ দিন আগে ভারী বর্ষণ ও অতি বৃষ্টির কারণে দুই উপজেলার হাওরের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। এদিকে দুই উপজেলার নদ নদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছেন আবারো অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কার আভাস রয়েছে।
সরেজমিনে দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে  দেখা যায়,ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির কয়েক দিনের নিস্তব্ধতার পর আবার দীর্ঘদিন পরে রোদ উঠায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের কৃষকদের মধ্যে। হাওরের বড় বড় কৃষকের খলাগুলোতেও ফিরেছে প্রাণ। যেসব খলায় বোরো মৌসুমে প্রতিদিন শত শত কৃষক-শ্রমিক কাজ করতেন, সেখানে গত ৬ দিন ছিল নিস্তব্ধতা। মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার নারী-পুরুষ সবাই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কৃষকরা বাড়ির আঙিনায় উঁচু জায়গায় ত্রিপাল ও নেট জাল বিছিয়ে ধান শুকানোর কাজ করছেন। একদিকে মাঠে জমে থাকা পানি, অন্যদিকে কর্দমাক্ত খলা এই পরিস্থিতিতে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে সরকারি পাকা সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করেছেন। কেউ কেউ আবার খলায় স্তুপ করে রাখা ধান রোদে নেড়ে দিচ্ছেন। । কেউ কেউ হাওরে কেটে রাখা ধান নৌকা ও ঠেলাগাড়িতে করে খলায় নিয়ে আসছেন।
 তবে কৃষকদের খলায় রাখা ধানের মধ্যে চারা গজিয়ে গেছে। ফলে কৃষকের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর  ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বড় কৃষক সৈয়দ হোসেন বলেন, খলায় প্রায় ১৪০ মণ ধানে চারা উঠে গেছে। সেই ধান শুকাতে কাজ করছি।গত কয়েকদিন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে টানা বৃষ্টি থাকায় শ্রমিক সংকটে আছি ১১০০-১২০০ রোজ টাকা দিয়েও লোক পাচ্ছি না । এখন নিজেরাই সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছি। জানি না আল্লাহ কপালে কী রেখেছেন। তবে রোদে কিছুটা হলেও ধান শুকাতে পারব।

মধ্যনগর  উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুগনুই  গ্রামের কৃষক মো:আকবর আলী কেঁদে কেঁদে বলেন, কয়েক দিন পর রোদ উঠেছে। হাওরের কোমর পানিতে ডুবে থাকা ফসল কেটে জাঙ্গালে রেখে এসেছি। এখন জাঙ্গালের ধান আনব, নাকি খলায় চারা গজানো ধান শুকাব, বুঝতে পারছি না।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বললেন, এ বছর আমাদের ভাটি অঞ্চলের একমাত্র বোর ফসল ৬০% ভাগের উপরে ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, হাওরে ৪০-৫০ শতাংশ ধান কাটা হলেও. কাটা ধানের অর্ধেক ধান লাগাতার বৃষ্টির কারণে পচে নষ্ট হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের হিসাবের সঙ্গে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাবের বিস্তর অমিল রয়েছে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, শুনেছি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের  সহায়তা দিবে। কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দিলে কৃষক বাঁচানো যাবে না। পরের ফসল উঠার আগে পর্যন্ত ৫০ কেজি চাল এবং নগদ এক হাজার করে টাকা দেবার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। বকেয়া কৃষিঋণও মওকুপ করা প্রয়োজন। আগামী কার্তিক মাসে বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করলে ঘুরে দাঁড়াবে কৃষক।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগে ভাগে পানি এসে একইভাবে হাওর ডুবলে পুরো হাওরজুড়ে হাহাকার ছিল। তখনকার সরকার কৃষক পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে সহায়তা দিয়েছিল। কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল । তবে রোদ উঠায় যারা খলায় কাটা ধান মাড়াই ও শুকাতে পারেননি, তারা এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। অবশিষ্ট মাঠের ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনি রায় বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। একটা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত, একটা মধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত এবং আরেকটা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আগামী ৩ মাস ৭৫০০ করে টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবেন ৫০০০ টাকা ও ২০ কেজি করে চাল এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবেন ২৫০০ টাকা ও ২০ কেজি করে চাল।

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় দুইদিন যাবৎ রোদ উঠায়, ধান শুকাতে কর্মব্যস্ত হাওরের কৃষক

প্রকাশিত : ১০:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় গত টানা ৬ দিনের বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা জুড়ে রোদ উঠেছে। এতে বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দুর্যোগের ভয় কাটেনি এখনও।
গত ১০ দিন আগে ভারী বর্ষণ ও অতি বৃষ্টির কারণে দুই উপজেলার হাওরের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। এদিকে দুই উপজেলার নদ নদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছেন আবারো অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কার আভাস রয়েছে।
সরেজমিনে দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে  দেখা যায়,ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির কয়েক দিনের নিস্তব্ধতার পর আবার দীর্ঘদিন পরে রোদ উঠায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের কৃষকদের মধ্যে। হাওরের বড় বড় কৃষকের খলাগুলোতেও ফিরেছে প্রাণ। যেসব খলায় বোরো মৌসুমে প্রতিদিন শত শত কৃষক-শ্রমিক কাজ করতেন, সেখানে গত ৬ দিন ছিল নিস্তব্ধতা। মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার নারী-পুরুষ সবাই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কৃষকরা বাড়ির আঙিনায় উঁচু জায়গায় ত্রিপাল ও নেট জাল বিছিয়ে ধান শুকানোর কাজ করছেন। একদিকে মাঠে জমে থাকা পানি, অন্যদিকে কর্দমাক্ত খলা এই পরিস্থিতিতে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে সরকারি পাকা সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করেছেন। কেউ কেউ আবার খলায় স্তুপ করে রাখা ধান রোদে নেড়ে দিচ্ছেন। । কেউ কেউ হাওরে কেটে রাখা ধান নৌকা ও ঠেলাগাড়িতে করে খলায় নিয়ে আসছেন।
 তবে কৃষকদের খলায় রাখা ধানের মধ্যে চারা গজিয়ে গেছে। ফলে কৃষকের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর  ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বড় কৃষক সৈয়দ হোসেন বলেন, খলায় প্রায় ১৪০ মণ ধানে চারা উঠে গেছে। সেই ধান শুকাতে কাজ করছি।গত কয়েকদিন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে টানা বৃষ্টি থাকায় শ্রমিক সংকটে আছি ১১০০-১২০০ রোজ টাকা দিয়েও লোক পাচ্ছি না । এখন নিজেরাই সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছি। জানি না আল্লাহ কপালে কী রেখেছেন। তবে রোদে কিছুটা হলেও ধান শুকাতে পারব।

মধ্যনগর  উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুগনুই  গ্রামের কৃষক মো:আকবর আলী কেঁদে কেঁদে বলেন, কয়েক দিন পর রোদ উঠেছে। হাওরের কোমর পানিতে ডুবে থাকা ফসল কেটে জাঙ্গালে রেখে এসেছি। এখন জাঙ্গালের ধান আনব, নাকি খলায় চারা গজানো ধান শুকাব, বুঝতে পারছি না।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বললেন, এ বছর আমাদের ভাটি অঞ্চলের একমাত্র বোর ফসল ৬০% ভাগের উপরে ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, হাওরে ৪০-৫০ শতাংশ ধান কাটা হলেও. কাটা ধানের অর্ধেক ধান লাগাতার বৃষ্টির কারণে পচে নষ্ট হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের হিসাবের সঙ্গে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাবের বিস্তর অমিল রয়েছে।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, শুনেছি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের  সহায়তা দিবে। কৃষকদের ৩ মাস সহায়তা দিলে কৃষক বাঁচানো যাবে না। পরের ফসল উঠার আগে পর্যন্ত ৫০ কেজি চাল এবং নগদ এক হাজার করে টাকা দেবার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। বকেয়া কৃষিঋণও মওকুপ করা প্রয়োজন। আগামী কার্তিক মাসে বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করলে ঘুরে দাঁড়াবে কৃষক।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগে ভাগে পানি এসে একইভাবে হাওর ডুবলে পুরো হাওরজুড়ে হাহাকার ছিল। তখনকার সরকার কৃষক পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে সহায়তা দিয়েছিল। কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল । তবে রোদ উঠায় যারা খলায় কাটা ধান মাড়াই ও শুকাতে পারেননি, তারা এখন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। অবশিষ্ট মাঠের ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনি রায় বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। একটা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত, একটা মধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত এবং আরেকটা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আগামী ৩ মাস ৭৫০০ করে টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবেন ৫০০০ টাকা ও ২০ কেজি করে চাল এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবেন ২৫০০ টাকা ও ২০ কেজি করে চাল।