ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কে ফাটল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর বাজারে সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটলের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফাটলের মাত্রাও। আরও কয়েকদিন যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাসাইল উপজেলা (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলী বাসাইল উপজেলার সৈদামপুর বাজার-কুরাতলী ভায়া প্রাইমারি স্কুল সড়কে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে।  চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতু বিগত ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল। পরে সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, এই রাস্তায় যখন মাটি ফেলা হয় তখন তেমন পেটানো হয় নাই। রোলার দিয়ে ভালো করে পেটানো হলে ফাটল ধরতো না। হালকা পেটানো দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে। যার কারণেই ফাটল ধরেছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শ্যামল সূত্রধর বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কে ভালো মতো মাটি পেটানো হয়নি। ভালোভাবে রাস্তার কাজটি করা উচিত ছিল।ভালো মতো মাটি পেটানো হলে এমনটা হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা ননী গোপাল সরকার বলেন, রাস্তার কাজ দেড় থেকে দুই মাসেই ফাটল ধরেছে। রাস্তা দিয়ে কি চলাচল করা যাবে আরও কয়েকদিন গেলে? যদি বৃষ্টি হয় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাবে না। রাস্তা ধসে যাবে। যদি ভালোভাবে কাজ করতো এমনটা হতো না।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলীর ম্যানেজার নুর নবী বলেন, আমাদের রাস্তার পাশে ব্লক রাখা ছিল। ব্রিজের সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলমান ছিল। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা ব্লক নিয়ে যেতে পারিনি। বৃষ্টির কারণে ব্লকের কাজ শেষ করতে পারিনি। ব্রিজের সংযোগ রাস্তায় ঈদের আগে কার্পেটিং করা হয়। নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বোঝাই ট্যাফিক গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় রাস্তার কিছু অংশ ফাটল দেখা দিয়েছে। যেখান দিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, বাসাইলের সৈদামপুরে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। ব্রিজের সংযোগ সড়কে কিছু অংশ ব্লক বসানো হয়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভাড়ি যানবাহন চলাচল করায় কিছু কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে। যার জন্য ব্রিজের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা গেছে। এই কাজ করছে বাছেদ প্রকৌশলী। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ভাঙন জায়গা ঠিক করে দেবে। ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজের টাকা এখনো দেওয়া হয়নি। যে জায়গাগুলোতে সমস্যা হয়েছে, তারা মেরামত করে দেবে।

৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কে ফাটল

প্রকাশিত : ০২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর বাজারে সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটলের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফাটলের মাত্রাও। আরও কয়েকদিন যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাসাইল উপজেলা (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলী বাসাইল উপজেলার সৈদামপুর বাজার-কুরাতলী ভায়া প্রাইমারি স্কুল সড়কে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে।  চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতু বিগত ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল। পরে সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, এই রাস্তায় যখন মাটি ফেলা হয় তখন তেমন পেটানো হয় নাই। রোলার দিয়ে ভালো করে পেটানো হলে ফাটল ধরতো না। হালকা পেটানো দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে। যার কারণেই ফাটল ধরেছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শ্যামল সূত্রধর বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কে ভালো মতো মাটি পেটানো হয়নি। ভালোভাবে রাস্তার কাজটি করা উচিত ছিল।ভালো মতো মাটি পেটানো হলে এমনটা হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা ননী গোপাল সরকার বলেন, রাস্তার কাজ দেড় থেকে দুই মাসেই ফাটল ধরেছে। রাস্তা দিয়ে কি চলাচল করা যাবে আরও কয়েকদিন গেলে? যদি বৃষ্টি হয় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাবে না। রাস্তা ধসে যাবে। যদি ভালোভাবে কাজ করতো এমনটা হতো না।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলীর ম্যানেজার নুর নবী বলেন, আমাদের রাস্তার পাশে ব্লক রাখা ছিল। ব্রিজের সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলমান ছিল। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা ব্লক নিয়ে যেতে পারিনি। বৃষ্টির কারণে ব্লকের কাজ শেষ করতে পারিনি। ব্রিজের সংযোগ রাস্তায় ঈদের আগে কার্পেটিং করা হয়। নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বোঝাই ট্যাফিক গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় রাস্তার কিছু অংশ ফাটল দেখা দিয়েছে। যেখান দিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, বাসাইলের সৈদামপুরে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। ব্রিজের সংযোগ সড়কে কিছু অংশ ব্লক বসানো হয়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভাড়ি যানবাহন চলাচল করায় কিছু কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে। যার জন্য ব্রিজের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা গেছে। এই কাজ করছে বাছেদ প্রকৌশলী। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ভাঙন জায়গা ঠিক করে দেবে। ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজের টাকা এখনো দেওয়া হয়নি। যে জায়গাগুলোতে সমস্যা হয়েছে, তারা মেরামত করে দেবে।