ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কলাপাড়ায় মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন খোলা আকাশের নিচে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
কলাপাড়া  প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেড়’শ বছরের পূরনো একটি মসজিদে মুসুল্লিরা নামাজ পড়ছেন খোলা আকাশের নিচে। মসজিদটি উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয়রা এটাকে খায়গো বাড়ির মসজিদ বলে ডাকে। আনুমানিক ১৫০ বছর পূর্বে স্থানীয় বাবুখাঁ নামে এক ব্যাক্তি মসজিদটি প্রথমে খর ও বাঁশ দিয়ে নির্মান করেন। এরপর কাঠ গোলপাতা ও টিনের ঘরে চলে বহুবছর। সর্বশেষ ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে চলছিল ইবাদতের কাজ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই দেয়ালের পলেস্তার ধসে পড়ে চতুর্পাশে ফাটল দেখা দেয়। মসজিদ কমিটি মুসল্লিদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুরনো মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলে। ওই মসজিদের পুরনো ইট, কমিটির ফান্ডে থাকা সামান্য অর্থ ও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে শুরু হয় একতলা ভবনের নির্মাণ কাজ। দেড় বছর আগে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে অর্থাভাবে কাজটি থেমে রয়েছে। নিরুপায় হয়ে মুসল্লিরা ওয়াক্তের নামাজসহ জুমার নামাজ আদায় করছেন এখন খোলা আকাশের নিচে। কিন্তু বৃষ্টি নামলে নামাজ পড়া আর সম্ভব হয়না।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী দেলোয়ার মোল্লা বলেন, আমাদের মসজিদে ভরপুর মুসল্লি থাকে। কিন্তু বর্তমানে মসজিদটির ছাদ না থাকায় অনেক মুসল্লী কমে গেছে। ঝড়, বৃষ্টি ও রোদে নামাজ পড়তে অনেক কষ্ট হয়।
মসজিদের ইমাম ও খতিব অলিউল্লা জানান, মসজিদের চতুর্পাশে এক থেকে দেড়শ পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা এই মসজিদে নামাজ পড়েন। কিন্তু বর্তমানে ছাঁদ না থাকায় ঝড় বৃষ্টিতে তারা নামাজ পড়তে পারেন না। এজন্য দিন দিন মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
মসজিদের সহ-সভাপতি হামিদ মিয়া বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মসজিদের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন মসজিদের ফান্ডে কোন টাকা নেই। আশেপাশের সকল পরিবারই গরীব তাদের দেয়া অর্থের মাধ্যমে তারা পিলার পর্যন্ত উঠিয়েছেন। মসজিদের সামান্য যে সম্পদ আছে, তাতে বছরে যে অর্থ আসে তা দিয়ে ইমাম মোয়াজ্জিনের বেতন দেয়াই কষ্টকর হয়। বর্তমানে মসজিদ পৌনে তিন লক্ষ টাকা ঋণে রয়েছে। তাই সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মসজিদের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, মসজিদে যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে তাতে তারা সাত থেকে আট লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। বর্তমানে মসজিদ ঋণে রয়েছে। ফান্ডে আপাতত কোন টাকা নেই। অতিদ্রুত ছাঁদটি দিতে না পারলে মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশ ও প্রবাসের সকলকের সহযোগিতা তিনি কামনা করছেন।
বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ’র নজরে আনলে তিনি সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।

কলাপাড়ায় মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন খোলা আকাশের নিচে

প্রকাশিত : ০৯:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
কলাপাড়া  প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেড়’শ বছরের পূরনো একটি মসজিদে মুসুল্লিরা নামাজ পড়ছেন খোলা আকাশের নিচে। মসজিদটি উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয়রা এটাকে খায়গো বাড়ির মসজিদ বলে ডাকে। আনুমানিক ১৫০ বছর পূর্বে স্থানীয় বাবুখাঁ নামে এক ব্যাক্তি মসজিদটি প্রথমে খর ও বাঁশ দিয়ে নির্মান করেন। এরপর কাঠ গোলপাতা ও টিনের ঘরে চলে বহুবছর। সর্বশেষ ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে চলছিল ইবাদতের কাজ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই দেয়ালের পলেস্তার ধসে পড়ে চতুর্পাশে ফাটল দেখা দেয়। মসজিদ কমিটি মুসল্লিদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুরনো মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলে। ওই মসজিদের পুরনো ইট, কমিটির ফান্ডে থাকা সামান্য অর্থ ও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে শুরু হয় একতলা ভবনের নির্মাণ কাজ। দেড় বছর আগে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে অর্থাভাবে কাজটি থেমে রয়েছে। নিরুপায় হয়ে মুসল্লিরা ওয়াক্তের নামাজসহ জুমার নামাজ আদায় করছেন এখন খোলা আকাশের নিচে। কিন্তু বৃষ্টি নামলে নামাজ পড়া আর সম্ভব হয়না।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী দেলোয়ার মোল্লা বলেন, আমাদের মসজিদে ভরপুর মুসল্লি থাকে। কিন্তু বর্তমানে মসজিদটির ছাদ না থাকায় অনেক মুসল্লী কমে গেছে। ঝড়, বৃষ্টি ও রোদে নামাজ পড়তে অনেক কষ্ট হয়।
মসজিদের ইমাম ও খতিব অলিউল্লা জানান, মসজিদের চতুর্পাশে এক থেকে দেড়শ পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা এই মসজিদে নামাজ পড়েন। কিন্তু বর্তমানে ছাঁদ না থাকায় ঝড় বৃষ্টিতে তারা নামাজ পড়তে পারেন না। এজন্য দিন দিন মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
মসজিদের সহ-সভাপতি হামিদ মিয়া বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মসজিদের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন মসজিদের ফান্ডে কোন টাকা নেই। আশেপাশের সকল পরিবারই গরীব তাদের দেয়া অর্থের মাধ্যমে তারা পিলার পর্যন্ত উঠিয়েছেন। মসজিদের সামান্য যে সম্পদ আছে, তাতে বছরে যে অর্থ আসে তা দিয়ে ইমাম মোয়াজ্জিনের বেতন দেয়াই কষ্টকর হয়। বর্তমানে মসজিদ পৌনে তিন লক্ষ টাকা ঋণে রয়েছে। তাই সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মসজিদের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, মসজিদে যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে তাতে তারা সাত থেকে আট লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। বর্তমানে মসজিদ ঋণে রয়েছে। ফান্ডে আপাতত কোন টাকা নেই। অতিদ্রুত ছাঁদটি দিতে না পারলে মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশ ও প্রবাসের সকলকের সহযোগিতা তিনি কামনা করছেন।
বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ’র নজরে আনলে তিনি সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।