ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

খুলনায় গরমে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, মর্নিং ক্লাসের দাবি অভিভাবকদের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

খুলনা প্রতিনিধি: তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে খুলনার রূপসা উপজেলার নন্দনপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এতে করে শিশু শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

অভিভাবকদের দাবি, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় মাদ্রাসায় দ্রুত মর্নিং শিফটে ক্লাস চালু করা জরুরি। সকাল বেলায় তুলনামূলক আবহাওয়া সহনীয় থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুয়াইরিয়া বিনতে জাহাঙ্গীরের অভিভাবক মোহসিনা রুম্মান বলেন, “আমার মেয়ে সকালে তাড়াহুড়া করে ক্লাসে যায়। দুপুরে টিফিনের সময় মাত্র ৪০ মিনিট পায়। এই সময়ের মধ্যে খাওয়া ও গোসল কোনোটাই ঠিকভাবে করতে পারে না। প্রচণ্ড গরমের কারণে দুপুরের পর সে আর ক্লাসে যেতে চায় না। এতে শারীরিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ছে।”

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তাহরিম খন্দকারের অভিভাবক বলেন, “এই গরমে ক্লাস করা সন্তানদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। বিশেষ করে টিফিনের পর তারা আর ক্লাসে যেতে চায় না। অনেক সময় জোর করে পাঠাতে হয়।”

আরও কয়েকজন অভিভাবক জানান, অতিরিক্ত গরমে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। অনেকেই মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঘামের সমস্যায় ভুগছে। তাই দ্রুত মর্নিং ক্লাস চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নন্দনপুর দাখিল মাদ্রাসাকে রূপসা উপজেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্যই নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি চাইলে মর্নিং ক্লাস চালু করা হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন,“প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছাড়া মাদ্রাসা কমিটির অন্য সদস্যরা তেমন খোঁজখবর রাখেন না। ফলে মাদ্রাসার গেটে বখাটেদের আড্ডাও বৃদ্ধি পেয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “আমরাও চাই মর্নিং ক্লাস চালু হোক। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।” এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় গরমে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, মর্নিং ক্লাসের দাবি অভিভাবকদের

প্রকাশিত : ০৮:৩০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

খুলনা প্রতিনিধি: তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে খুলনার রূপসা উপজেলার নন্দনপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এতে করে শিশু শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

অভিভাবকদের দাবি, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় মাদ্রাসায় দ্রুত মর্নিং শিফটে ক্লাস চালু করা জরুরি। সকাল বেলায় তুলনামূলক আবহাওয়া সহনীয় থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুয়াইরিয়া বিনতে জাহাঙ্গীরের অভিভাবক মোহসিনা রুম্মান বলেন, “আমার মেয়ে সকালে তাড়াহুড়া করে ক্লাসে যায়। দুপুরে টিফিনের সময় মাত্র ৪০ মিনিট পায়। এই সময়ের মধ্যে খাওয়া ও গোসল কোনোটাই ঠিকভাবে করতে পারে না। প্রচণ্ড গরমের কারণে দুপুরের পর সে আর ক্লাসে যেতে চায় না। এতে শারীরিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ছে।”

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তাহরিম খন্দকারের অভিভাবক বলেন, “এই গরমে ক্লাস করা সন্তানদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। বিশেষ করে টিফিনের পর তারা আর ক্লাসে যেতে চায় না। অনেক সময় জোর করে পাঠাতে হয়।”

আরও কয়েকজন অভিভাবক জানান, অতিরিক্ত গরমে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। অনেকেই মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ঘামের সমস্যায় ভুগছে। তাই দ্রুত মর্নিং ক্লাস চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নন্দনপুর দাখিল মাদ্রাসাকে রূপসা উপজেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্যই নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি চাইলে মর্নিং ক্লাস চালু করা হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন,“প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছাড়া মাদ্রাসা কমিটির অন্য সদস্যরা তেমন খোঁজখবর রাখেন না। ফলে মাদ্রাসার গেটে বখাটেদের আড্ডাও বৃদ্ধি পেয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “আমরাও চাই মর্নিং ক্লাস চালু হোক। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।” এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।