জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলছে। বিকেল তিনটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রশ্নোত্তর, সাধারণ বাজেট আলোচনা থেকে শুরু করে ৩০০ বিধিসহ বিভিন্ন বিধিতে আলোচনা করে থাকেন সংসদের সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। সেখানে তিস্তা প্রকল্প, কৃষি উন্নয়ন, সীমান্ত হত্যা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাজেট ও শিক্ষা খাতের সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে আসে। সরকারপ্রধান জানায়, তিস্তা নদীতে আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের উদ্যোক্তায় পরিণত করে কৃষিখাতকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হামের টিকাদানে গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
শুধু সরকার প্রধান নয়, মন্ত্রীরা সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে বাজেটের সমালোচনা, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি জটিলতা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সংসদীয় বক্তব্য নিয়ে তর্ক-বিতর্কে সরগরম ছিল অধিবেশন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৩টার পর জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বিকেল ৩টা থেকে আসরের আযান পর্যন্ত সভাপতিত্ব করেছেন। তার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরবর্তী সময়ে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের উপস্থিত না থাকলেও প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ দেওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উজানে অতি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন হয়।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা এলাকার ৫টি জেলায় (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট) নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা এ মাসেই শেষ করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। আরও উল্লেখ্য, এই কাজের মধ্যে রংপুর -৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান আছে, যার বাস্তবায়নও চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশেই কমে আসবে।
তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন/স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরো একটি ব্যারেজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।

সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্-এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
লিথিত বক্তেব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের জন্য এআইভিত্তিক অনলাইন সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























