দুমকি প্রতিনিধি: অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা গেলে যেমন প্রাণহানি কমানো সম্ভব, তেমনি রক্ষা করা যায় কোটি টাকার সম্পদ। কিন্তু পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন না থাকায় সেই মূল্যবান সময়ই হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের আহ্বান আরও জোরালো হচ্ছে।
বর্তমানে দুমকিতে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেলেই দমকলকর্মীদের জেলা সদর বা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ছুটে আসতে হয়। প্রায় ১৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। স্থানীয়দের মতে, এই সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফলে দোকানপাট, বসতবাড়ি, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্পদ রক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।
সম্প্রতি উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় একটি ভাতের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পিরতলা বাজার, থানা ব্রীজের পশ্চিম পাড়ে জেএস মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, হাওলাদার বেকারি, বোর্ড অফিস বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট, বসত ঘর, খড়ের গাদা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগারে একাধিকবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক পরিবার ও ব্যবসায়ী।
স্থানীয়দের মতে, দুমকিতে জনসংখ্যা, আবাসন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে এখানে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে মানুষের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন প্রতিষ্ঠা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।
দুমকি-বিসমিল্লাহ সড়কের বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. আফজার হোসেন বলেন, “ফায়ার সার্ভিস কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার অন্যতম মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আমরা চাই না কোনো দুর্ঘটনার পর শুধু আফসোস করতে হোক। আমরা চাই দুর্ঘটনার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত হোক। তাই দুমকিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত এখানে একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন করা হোক।”
স্থানীয়দের বিশ্বাস, দুমকিতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে মানুষের জানমাল রক্ষার পাশাপাশি সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।
জনস্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার স্বার্থে দুমকিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























