ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

পরিবেশ দূষণকারী বরিশালের টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা বন্ধের দাবি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকা সেতুসংলগ্ন সুগন্ধা নদীতীরে গড়ে ওঠা টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’ আগামী সাত দিনের মধ্যে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
গত ২৫ জুন বেলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস. হাসানুল বান্না পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশালের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ১০ জন কর্মকর্তার কাছে ‘নোটিস অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ পাঠান।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়, সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এর বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে। কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও শিল্পবর্জ্য স্থানীয় পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নদীর প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা মিজানুর রহমান কয়েকজন কৃষকের জমি ভাড়া নিয়ে কারখানাটি স্থাপন করেন। শুরুতে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও পরবর্তীতে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের কারণে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। একাধিকবার কারখানাটি অন্যত্র স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হলেও মালিকপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি। পরে এলাকাবাসী বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান খোকন বলেন, কারখানাটি থেকে প্রতিনিয়ত টায়ার পোড়ানোর ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারখানার মালিক মো. মিজানুর রহমান। তিনি দাবি করেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়েই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য, স্থানীয় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারখানাটি বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া টায়ার সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে আরও অন্তত ১০০টি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।
এদিকে বেলার দাবি, সুগন্ধা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীতীরে এ ধরনের দূষণকারী শিল্পকারখানা দীর্ঘমেয়াদে নদীর জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বেলার বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন বলেন, সাত দিনের মধ্যে কারখানাটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।
এই সংস্করণে ভাষা আরও সাবলীল, তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে এবং সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী করে সম্পাদনা করা হয়েছে।

সরকারি দলের নেতাদের সম্পদ জেলে থাকলেও বেড়েছে কয়েক গুণ

পরিবেশ দূষণকারী বরিশালের টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা বন্ধের দাবি

প্রকাশিত : ০৯:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকা সেতুসংলগ্ন সুগন্ধা নদীতীরে গড়ে ওঠা টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’ আগামী সাত দিনের মধ্যে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
গত ২৫ জুন বেলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস. হাসানুল বান্না পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশালের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ১০ জন কর্মকর্তার কাছে ‘নোটিস অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ পাঠান।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়, সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এর বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছে। কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও শিল্পবর্জ্য স্থানীয় পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নদীর প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা মিজানুর রহমান কয়েকজন কৃষকের জমি ভাড়া নিয়ে কারখানাটি স্থাপন করেন। শুরুতে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও পরবর্তীতে বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের কারণে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। একাধিকবার কারখানাটি অন্যত্র স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হলেও মালিকপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি। পরে এলাকাবাসী বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান খোকন বলেন, কারখানাটি থেকে প্রতিনিয়ত টায়ার পোড়ানোর ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কারখানার মালিক মো. মিজানুর রহমান। তিনি দাবি করেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়েই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য, স্থানীয় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারখানাটি বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ জনের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। এছাড়া টায়ার সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে আরও অন্তত ১০০টি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।
এদিকে বেলার দাবি, সুগন্ধা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীতীরে এ ধরনের দূষণকারী শিল্পকারখানা দীর্ঘমেয়াদে নদীর জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বেলার বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন বলেন, সাত দিনের মধ্যে কারখানাটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।
এই সংস্করণে ভাষা আরও সাবলীল, তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে এবং সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী করে সম্পাদনা করা হয়েছে।