ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

জিএমপি কমিশনারের প্রেস ব্রিফিং গাজীপুরে ৬ মাসে ১৮৫৪ মামলায় ৩২১৭ জন গ্রেফতার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:২২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় গত ৬ মাসে অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ১৮৫৪ টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ২০টি, ডাকাতি মামলা ৭টি, ছিনতাই মামলা ২৮টি, সিধেল চুরি মামলা ১৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ১৭৬টি, মাদক মামলা ৮১২টি, অস্ত্র মামলা ৬০টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৭৩৫টি মামলা মামলা করেছে ভুক্তভোগীরা। এই মামলার বিপরীতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ৩২১৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। তারমধ্যে ২৮টি ছিনতাই মামলায় ৪৬জন, ৭টি ডাকাতি মামলায় ২৩জন, ৫৭টি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় ৩৫৪ জন, ৬০টি অস্ত্র মামলায় ৩৭৭ জন, ৮১২টি মাদক মামলায় ৯৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী, জিএমপি অ্যাক্টে ৯০১ জন মাদক সেবনকারী, অন্যান্য মামলায় ৫২৮ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময়ে ১০ টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ০১ রাউন্ড গুলির খোসা, ০৪ টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উক্ত সময়ে ৫১,৫৬০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫৭কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০পিস প্যাথেডিন, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ, ১৫১লিটার বিদেশী মদ এবং ২৭৬বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
সমসাময়িক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার এসকল তথ্য জানান। মঙ্গলবার ৭ জুলাই সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন হেড কোয়ার্টারসের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় পুলিশ কমিশনার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের হঠাৎ ঝটিকা মিছিল করে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। জিএমপি সদর থানাধীন নান্দুয়াইন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হোটেল নিরিবিলি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-২ এর সামনে মিছিল করার তথ্য পাওয়া যায়। বাসন থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মোগরখাল এলাকায় গত ২১ জুন সকালে  আরো একটি মিছিল হয়েছে এবং উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হতে পুলিশেকে লক্ষ্য করে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এর বিভিন্ন থানা এলাকায় মিছিল করা বা মিছিলের প্রচেষ্টার তথ্য পাওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিছিলের ঘটনায় সদর থানায় ২টি, বাসন থানায় ১টি, কোনাবাড়ী থানায় ১টি ও গাছা থানায় ২টি এবং টঙ্গী পশ্চিম থানায় ১টি সহ মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে। উক্ত ৭টি মামলায় ৯৫ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী, সহায়তা ও অর্থ প্রদানকারী আরো শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ সন্ত্রাস বিরোধী অপরাধ কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকা, অর্থায়ন বা অন্য কোনভাবে সহযোগীতা করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারনার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত যে কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য বা গোপন কার্যক্রম, প্রচার-প্রচারণা ইত্যাদি সন্ত্রাস বিরোধী আইনে অপরাধ বলে গণ্য। সন্ত্রাস বিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতিরোধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে।
সম্প্রতি একটি দলের ছত্রছায়ায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার বলেন, টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পাগাড় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শক্তি প্রদর্শন ও মহড়ার ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। উক্ত ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় ১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় ৯জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামীদের মধ্য হতে তদন্তে প্রাপ্ত ৯জনসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল যোগে যারা মহড়া দিয়েছিল তাদের নাম-ঠিকানা সনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ আধিপত্য বিস্তারের যে কোনো মহড়া বা শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলে তা কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় ছোট বড় অনেকগুলো বস্তি রয়েছে। যেগুলো মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনকারীদের অভয়ারন্য হিসেবে বিবেচিত ছিলো তা ধ্বংস করার জন্য ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। টঙ্গীসহ সকল বস্তিসমূহের মাদক সেবনকারীদের দূর্ভেদ্য দূর্গে প্রবেশ করে তাদেরকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মাদক উদ্ধার করে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশেষ করে মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগর বস্তিতে অভিযান অব্যাহত আছে। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের অনুসন্ধান করে তা আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে চেকপোষ্ট, টহল, ব্লক রেইড, বিশেষ অভিযান দল ইত্যাদি গঠন করে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত বেশ কিছু দিন ধরে যে সমস্ত ছিনতাইকারী গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই পূর্বে এক বা একাধিক একই অপরাধে গ্রেফতার করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ধৃত ছিনতাইকারীদের দ্রুত বিচার আইন, অস্ত্র আইন, দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় বিজ্ঞ আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ প্রতিরোধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় উল্লেখযোগ্য হারে অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ কমে গেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশি তৎপরতা ও সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনার ফলে বর্তমানে গাজীপুর মহানগর এলাকায় বেওয়ারিশ লাশ ফেলে যাওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের থানাসমূহে ২০২৩ সালে ৯৪ টি, ২০২৪ সালে ৯৬ টি এবং ২০২৫ সালে ৮১ টি খুন মামলা হয়েছে। বিগত ৬ মাসে খুন মামলার সংখ্যা ২০টি যার মধ্যে ১টি মাত্র লাশ সনাক্ত করা যায় নি।
গাজীপুর মেট্রেপলিটন পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদায়িত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। নাগরিকদের সহযোগীতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা আমাদের কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি
এসময় পুলিশ কমিশনার বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাংসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, মামলা নিষ্পত্তি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জিএমপির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থেকে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনারবৃন্দসহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মে ও জুন মাসের বেতন ছাড়

জিএমপি কমিশনারের প্রেস ব্রিফিং গাজীপুরে ৬ মাসে ১৮৫৪ মামলায় ৩২১৭ জন গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৯:২২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় গত ৬ মাসে অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ১৮৫৪ টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ২০টি, ডাকাতি মামলা ৭টি, ছিনতাই মামলা ২৮টি, সিধেল চুরি মামলা ১৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ১৭৬টি, মাদক মামলা ৮১২টি, অস্ত্র মামলা ৬০টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৭৩৫টি মামলা মামলা করেছে ভুক্তভোগীরা। এই মামলার বিপরীতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ৩২১৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। তারমধ্যে ২৮টি ছিনতাই মামলায় ৪৬জন, ৭টি ডাকাতি মামলায় ২৩জন, ৫৭টি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় ৩৫৪ জন, ৬০টি অস্ত্র মামলায় ৩৭৭ জন, ৮১২টি মাদক মামলায় ৯৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী, জিএমপি অ্যাক্টে ৯০১ জন মাদক সেবনকারী, অন্যান্য মামলায় ৫২৮ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময়ে ১০ টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ০১ রাউন্ড গুলির খোসা, ০৪ টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উক্ত সময়ে ৫১,৫৬০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫৭কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০পিস প্যাথেডিন, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ, ১৫১লিটার বিদেশী মদ এবং ২৭৬বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
সমসাময়িক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার এসকল তথ্য জানান। মঙ্গলবার ৭ জুলাই সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন হেড কোয়ার্টারসের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় পুলিশ কমিশনার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের হঠাৎ ঝটিকা মিছিল করে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। জিএমপি সদর থানাধীন নান্দুয়াইন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হোটেল নিরিবিলি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-২ এর সামনে মিছিল করার তথ্য পাওয়া যায়। বাসন থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মোগরখাল এলাকায় গত ২১ জুন সকালে  আরো একটি মিছিল হয়েছে এবং উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হতে পুলিশেকে লক্ষ্য করে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এর বিভিন্ন থানা এলাকায় মিছিল করা বা মিছিলের প্রচেষ্টার তথ্য পাওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিছিলের ঘটনায় সদর থানায় ২টি, বাসন থানায় ১টি, কোনাবাড়ী থানায় ১টি ও গাছা থানায় ২টি এবং টঙ্গী পশ্চিম থানায় ১টি সহ মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে। উক্ত ৭টি মামলায় ৯৫ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী, সহায়তা ও অর্থ প্রদানকারী আরো শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ সন্ত্রাস বিরোধী অপরাধ কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকা, অর্থায়ন বা অন্য কোনভাবে সহযোগীতা করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারনার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত যে কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য বা গোপন কার্যক্রম, প্রচার-প্রচারণা ইত্যাদি সন্ত্রাস বিরোধী আইনে অপরাধ বলে গণ্য। সন্ত্রাস বিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতিরোধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে।
সম্প্রতি একটি দলের ছত্রছায়ায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার বলেন, টঙ্গী পূর্ব থানাধীন পাগাড় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শক্তি প্রদর্শন ও মহড়ার ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। উক্ত ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় ১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় ৯জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামীদের মধ্য হতে তদন্তে প্রাপ্ত ৯জনসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল যোগে যারা মহড়া দিয়েছিল তাদের নাম-ঠিকানা সনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ আধিপত্য বিস্তারের যে কোনো মহড়া বা শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলে তা কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় ছোট বড় অনেকগুলো বস্তি রয়েছে। যেগুলো মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনকারীদের অভয়ারন্য হিসেবে বিবেচিত ছিলো তা ধ্বংস করার জন্য ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। টঙ্গীসহ সকল বস্তিসমূহের মাদক সেবনকারীদের দূর্ভেদ্য দূর্গে প্রবেশ করে তাদেরকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মাদক উদ্ধার করে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশেষ করে মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগর বস্তিতে অভিযান অব্যাহত আছে। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পদের অনুসন্ধান করে তা আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে চেকপোষ্ট, টহল, ব্লক রেইড, বিশেষ অভিযান দল ইত্যাদি গঠন করে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত বেশ কিছু দিন ধরে যে সমস্ত ছিনতাইকারী গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই পূর্বে এক বা একাধিক একই অপরাধে গ্রেফতার করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ধৃত ছিনতাইকারীদের দ্রুত বিচার আইন, অস্ত্র আইন, দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় বিজ্ঞ আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ প্রতিরোধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় উল্লেখযোগ্য হারে অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ কমে গেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশি তৎপরতা ও সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনার ফলে বর্তমানে গাজীপুর মহানগর এলাকায় বেওয়ারিশ লাশ ফেলে যাওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের থানাসমূহে ২০২৩ সালে ৯৪ টি, ২০২৪ সালে ৯৬ টি এবং ২০২৫ সালে ৮১ টি খুন মামলা হয়েছে। বিগত ৬ মাসে খুন মামলার সংখ্যা ২০টি যার মধ্যে ১টি মাত্র লাশ সনাক্ত করা যায় নি।
গাজীপুর মেট্রেপলিটন পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদায়িত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। নাগরিকদের সহযোগীতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা আমাদের কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি
এসময় পুলিশ কমিশনার বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাংসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, মামলা নিষ্পত্তি, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জিএমপির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চল, আবাসিক এলাকা, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থেকে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনারবৃন্দসহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।