ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সমুদ্রের সাথে ১২ ঘন্টা মরণপণ যুদ্ধ: অলৌকিকভাবে বেচেঁ ফিরলেন ১২ জেলে, নিখোঁজ-২

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ ধেয়ে আসা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে ১২ জেলে অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেও, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জেলে। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪ টার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন গভীর সাগরে এই মর্মান্তিক ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়েছিল।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম (৫৫)এবং শহীদ(৫৭)।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুলাল মাঝির ট্রলারটি গভীর সাগরে অবস্থান করছিল। বিকেল চারটার দিকে মহিপুর মৎস্য বন্দরে আসার জন্য রওনা করছিলো। হঠাৎ করেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গিয়ে সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে উল্টে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, ট্রলারটি যখন উল্টে যায়, তখন কালাম ও শহীদ কেবিনের ভেতরে থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তারা তলিয়ে যান। আর কোনো উপায় না পেয়ে ট্রলারে থাকা মাঝিসহ বাকি ১২ জেলে উত্তাল সাগরের বুকেই ভাসতে থাকেন।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু করে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত—দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরের বুকে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেন ১২ জেলে। আজ ভোরে ভাগ্যক্রমে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের মাঝি মাল্লাদের নজরে আসেন তারা। ট্রলারটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় মাঝিসহ ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকৃতরা হলেন: দুলাল মাঝি, কামাল (৩৫), মনির (৩৮), ইমরান (২৫), জামাল (৩৫) এবং শামীম (৩২) সহ মোট ১২ জেলে। বাকি জেলেদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। এদের প্রত্যেকের বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিদ্রা এলাকায়।

নিখোঁজ দুই জেলে কালাম ও শহীদকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি দল সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে সাগরের অবস্থা এখনও উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চলছে চরম উদ্বেগ আর কান্নার রোল। স্বজনদের আকুল আর্তনাতে মৎস্য বন্দর আলিপুর- মহিপুর সহ উপকূলীয় এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
জেলেদের দাবি, নিখোঁজ কালাম ও শহীদকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের আড়তদার ও জেলেদের সুত্রে জানাগেছে, বৈরী আবহাওয়ার মাঝে সমুদ্র মাছ শিকারে গিয়ে অনেক ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ট্রলারে থাকা জেলেদের ভাগ্যে কি আছে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে কি পরিমাণ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।

কুয়াকাটা উপকূলের জেলেদের একটি সুত্র জানিয়েছেন, সমুদ্রে একাধিক লাশ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। যা তীরে আসতে সময় লাগবে। গতকাল ১টি অর্ধগলিত মরদেহ কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ শামীম হাওলাদার জানান, সাগরে ট্রলার ডুবি বা জেলে নিখোঁজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। নিখোঁজদের পরিবার বা ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আইনগত সহায়তাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধলাই নদীতে ভাঙ্গন, প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম

সমুদ্রের সাথে ১২ ঘন্টা মরণপণ যুদ্ধ: অলৌকিকভাবে বেচেঁ ফিরলেন ১২ জেলে, নিখোঁজ-২

প্রকাশিত : ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ ধেয়ে আসা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে ১২ জেলে অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেও, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জেলে। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪ টার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন গভীর সাগরে এই মর্মান্তিক ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়েছিল।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম (৫৫)এবং শহীদ(৫৭)।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুলাল মাঝির ট্রলারটি গভীর সাগরে অবস্থান করছিল। বিকেল চারটার দিকে মহিপুর মৎস্য বন্দরে আসার জন্য রওনা করছিলো। হঠাৎ করেই সাগরে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গিয়ে সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে উল্টে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, ট্রলারটি যখন উল্টে যায়, তখন কালাম ও শহীদ কেবিনের ভেতরে থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তারা তলিয়ে যান। আর কোনো উপায় না পেয়ে ট্রলারে থাকা মাঝিসহ বাকি ১২ জেলে উত্তাল সাগরের বুকেই ভাসতে থাকেন।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু করে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত—দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরের বুকে মৃত্যুর সাথে লড়াই করেন ১২ জেলে। আজ ভোরে ভাগ্যক্রমে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের মাঝি মাল্লাদের নজরে আসেন তারা। ট্রলারটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় মাঝিসহ ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকৃতরা হলেন: দুলাল মাঝি, কামাল (৩৫), মনির (৩৮), ইমরান (২৫), জামাল (৩৫) এবং শামীম (৩২) সহ মোট ১২ জেলে। বাকি জেলেদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। এদের প্রত্যেকের বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিদ্রা এলাকায়।

নিখোঁজ দুই জেলে কালাম ও শহীদকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি দল সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে সাগরের অবস্থা এখনও উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চলছে চরম উদ্বেগ আর কান্নার রোল। স্বজনদের আকুল আর্তনাতে মৎস্য বন্দর আলিপুর- মহিপুর সহ উপকূলীয় এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
জেলেদের দাবি, নিখোঁজ কালাম ও শহীদকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের আড়তদার ও জেলেদের সুত্রে জানাগেছে, বৈরী আবহাওয়ার মাঝে সমুদ্র মাছ শিকারে গিয়ে অনেক ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ট্রলারে থাকা জেলেদের ভাগ্যে কি আছে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে কি পরিমাণ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।

কুয়াকাটা উপকূলের জেলেদের একটি সুত্র জানিয়েছেন, সমুদ্রে একাধিক লাশ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। যা তীরে আসতে সময় লাগবে। গতকাল ১টি অর্ধগলিত মরদেহ কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ শামীম হাওলাদার জানান, সাগরে ট্রলার ডুবি বা জেলে নিখোঁজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। নিখোঁজদের পরিবার বা ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আইনগত সহায়তাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে।