ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

জলাবদ্ধতায় নাকাল পটুয়াখালী শহর, দ্রুত পদক্ষেপ চান বাসিন্দারা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: টানা ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। এতে বহু বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জলাবদ্ধতার জন্য অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ড্রেনে পলি জমে থাকাকে দায়ী করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাতের টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারেনি। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা পার্থ বলেন, “রাত থেকেই বাসার উঠান ও নিচতলায় পানি উঠে যায়। সকালে পানি কিছুটা কমলেও অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের এই এলাকার ড্রেনটি এখনো কাঁচা। তার ওপর ড্রেনে পলি জমে থাকায় বৃষ্টি হলেই আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ি। পৌর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে কাঁচা ড্রেন ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই পানি জমে বাসাবাড়ি ও সড়কে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারেননি, ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে।

রিকশাচালক মো. কবির মোল্লা বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টি। রাস্তায় মানুষ কম, যাত্রীও নেই। সারাদিনে যা আয় হয়, আজ তার অর্ধেকও হয়নি। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

দিনমজুর মো. মালেক সরদার বলেন, “বৃষ্টি হলে কাজ থাকে না। কাজ না করলে আয়ও নেই। পরিবারের খাবার জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।”

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজয়ের শেষ ছবি শুধু ‘প্রাপ্তবয়স্ক’দের জন্য

জলাবদ্ধতায় নাকাল পটুয়াখালী শহর, দ্রুত পদক্ষেপ চান বাসিন্দারা

প্রকাশিত : ০৭:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: টানা ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। এতে বহু বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জলাবদ্ধতার জন্য অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ড্রেনে পলি জমে থাকাকে দায়ী করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাতের টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারেনি। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা পার্থ বলেন, “রাত থেকেই বাসার উঠান ও নিচতলায় পানি উঠে যায়। সকালে পানি কিছুটা কমলেও অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের এই এলাকার ড্রেনটি এখনো কাঁচা। তার ওপর ড্রেনে পলি জমে থাকায় বৃষ্টি হলেই আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ি। পৌর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে কাঁচা ড্রেন ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই পানি জমে বাসাবাড়ি ও সড়কে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারেননি, ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে।

রিকশাচালক মো. কবির মোল্লা বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টি। রাস্তায় মানুষ কম, যাত্রীও নেই। সারাদিনে যা আয় হয়, আজ তার অর্ধেকও হয়নি। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

দিনমজুর মো. মালেক সরদার বলেন, “বৃষ্টি হলে কাজ থাকে না। কাজ না করলে আয়ও নেই। পরিবারের খাবার জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।”

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।