জুবাইয়া বিন্তে কবির: বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু কিছু সময় আসে, যখন জাতি কেবল শাসক বদলায় না; বরং নিজের বিবেকের কাছে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। আমরা আসলে কেমন রাষ্ট্র চাই? কেমন নেতৃত্ব চাই? কেমন সমাজ চাই? আর কেমন ভবিষ্যৎ আমাদের সন্তানদের হাতে তুলে দিতে চাই? দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যক্তিপূজা, প্রশাসনিক জটিলতা, প্রতিহিংসার সংস্কৃতি, ভাঙা প্রতিষ্ঠান আর অনিশ্চিত জনজীবনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যে ক্লান্তি বহন করে চলেছিল, তার ভেতর থেকে আজ এক নতুন প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকারকে ঘিরে মানুষের মনে যেমন আশা জন্মেছে, তেমনি জেগেছে নতুন করে দেখার, বোঝার এবং বিচার করার আকাঙ্ক্ষা।
পাঁচ মাস কোনো সরকারের জন্য দীর্ঘ সময় নয়।রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি এক ধরনের প্রাথমিক গুছিয়ে ওঠার পর্ব, যখন সরকার নিজের দিকনির্দেশনা তৈরি করে, প্রশাসনকে স্থিতিশীল করে এবং জনগণও তার কাজের প্রাথমিক স্বাক্ষর দেখতে চায়। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই যদি কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা, মিতব্যয়িতা, জনমুখী দৃষ্টি এবং মানবিক উচ্চারণের উপস্থিতি টের পায়, তবে সেটিকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। এই সময়ের বাংলাদেশ তাই কেবল শাসনপরিবর্তনের বাংলাদেশ নয়; এটি একটি সম্ভাবনার বাংলাদেশ, যেখানে দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশার ওপরে আশার প্রথম আলো পড়ছে।
আমি যখন এই সময়ের রাজনৈতিক আবহ দেখি, তখন তা দেখি একজন মেয়ের চোখে, একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে, এবং একজন দেশের নাগরিক হিসেবে। আমার চাচা জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম কবির মুরাদ, আমার ফুপা সিলেটের সাবেক এমপি জাতীয় নেতা জনাব মোঃ ইলিয়াস আলী, এবং আমার ফুপি সিলেট-২ আসনের বিএনপি দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা এই তিনজনই আমার কাছে কেবল আত্মীয় নন, তাঁরা একেকটি রাজনৈতিক ইতিহাস, একেকটি ত্যাগের অধ্যায়, একেকটি আদর্শের প্রতীক। তাঁদের স্মৃতি, তাঁদের সংগ্রাম, তাঁদের নিঃস্বার্থ অবস্থান আমাকে শিখিয়েছে, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা নয়; রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, এবং জাতীয় স্বপ্নকে বুকে ধারণ করা।
এই উত্তরাধিকার আমাকে আবেগী করে তোলে, কিন্তু অন্ধ করে না। কারণ একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে আমার দায়িত্ব আরও বেশি। আমাকে শুধু প্রশংসা করতে নয়, বোঝতেও হয়; শুধু আশা করতে নয়, বিচারও করতে হয়। সেই বিচার-বিশ্লেষণের জায়গা থেকে বর্তমান সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তা হলো তারা শাসনের ভাষা বদলাতে চেয়েছে। রাষ্ট্রীয় আড়ম্বর কমানো, প্রটোকলের বাহুল্য হ্রাস, ব্যয়সংকোচন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, এবং জনগণের কাছে সরকারকে আরও approachable করে তোলার চেষ্টা এসবই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। ক্ষমতা যখন মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যায়, তখন রাষ্ট্র ভীতিকর হয়ে ওঠে। আর ক্ষমতা যখন সংযম শেখে, তখন রাষ্ট্র মানুষের ঘরের মতো হতে শুরু করে।
দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধের ভাষা থেকে সরে এসে পুনর্গঠনের ভাষা উচ্চারণ করতে চেয়েছেন। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে বিভাজনের রাজনীতিতে ক্ষতবিক্ষত। “আমরা বনাম ওরা” মানসিকতা সমাজকে এতটাই খণ্ডিত করেছে যে, রাষ্ট্র যেন নাগরিকের অভিন্ন ঘর না হয়ে দলীয় মালিকানার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্তির, পুনর্মিলনের এবং জাতীয় ঐক্যের ভাষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জননেতা তারেক রহমান যদি সত্যিই সেই পথেই এগোন, তবে সেটি হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বড় মোড়। কারণ জাতিকে একত্রিত করার কাজ স্লোগানে হয় না; এটি হয় আস্থা, ন্যায়, সংযম এবং ধারাবাহিকতা দিয়ে।
বর্তমান সরকারের অন্যতম আলোচিত দিক হলো পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ। এই কর্মসূচিগুলোকে কাগুজে সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য বহুদিনের। সুবিধা অনেক সময় কাগজে থাকে, গন্তব্যে পৌঁছায় না। সেখানে সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ধারণা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা নয়, নৈতিক অবস্থানেরও বহিঃপ্রকাশ। কৃষক যদি নিজের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পায়, পরিবার যদি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার আওতায় আসে, তবে রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাই বাড়ে। কৃষি বাংলাদেশের প্রাণ। অথচ কৃষকের ভাগ্য বহুদিন ধরে অবহেলিত থেকেছে। বাজারের অস্থিরতা, সার-বীজ-জ্বালানির চাপ, ন্যায্য দাম না পাওয়া, দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সব মিলিয়ে কৃষক এক অনন্ত লড়াইয়ের নাম। তাই কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগকে আমি দেখি শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা হিসেবে নয়; এটি কৃষকের মর্যাদার স্বীকৃতি। রাষ্ট্র যদি কৃষককে সম্মান দিতে শেখে, তবে সে রাষ্ট্র ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবে। আর খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়া কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে আত্মনির্ভর হতে পারে না।
নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়েও এই সরকারের বক্তব্য ও পদক্ষেপগুলোর তাৎপর্য অনেক। একটি রাষ্ট্র তখনই আধুনিক হয়, যখন তার নারীরা নিরাপদে চলতে পারে, শিক্ষিত হতে পারে, কাজ করতে পারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারে। শুধু আইন করলেই নারীর নিরাপত্তা আসে না; প্রয়োজন মানসিক পরিবর্তন, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা। নারী যেন রাষ্ট্রের করুণা না হয়ে অধিকার পান এই চিন্তা যদি নীতিনির্ধারণে প্রবেশ করে, তাহলে সেটিই হবে বড় অর্জন। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, কর্মজীবী নারীর জন্য সুরক্ষিত যাতায়াত, এবং সামাজিক মর্যাদার নিশ্চয়তা এসব পদক্ষেপ একটি মানবিক রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত।
শিক্ষা খাত রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের মনোযোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিশুদের স্কুলে টিকিয়ে রাখা, শিক্ষার সঙ্গে আনন্দ যুক্ত করা, অবকাঠামো উন্নত করা, এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলা এসব শুধু শিক্ষানীতি নয়, জাতি নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। যে জাতি তার শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে পারে, সে জাতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়। আর যে সরকার শিক্ষা ও প্রযুক্তিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে চায়, সে সরকার বুঝে নিয়েছে ভবিষ্যতের যুদ্ধ মাটিতে নয়, মেধায়, দক্ষতায় এবং উদ্ভাবনে জেতা যায়। এই উপলব্ধি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, মানুষের চরিত্র গঠনের জন্যও। যদি স্কুল ড্রেস, মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে বই, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং প্রযুক্তিসুবিধা একসঙ্গে শিশুর জীবনে ঢুকে পড়ে, তবে সে শুধু পরীক্ষায় ভালো করবে না; সে ভালো নাগরিকও হবে। ভবিষ্যতের রাষ্ট্র গড়তে হলে শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহমর্মিতা, সৌজন্য ও শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হয়। বর্তমান সরকারের শিক্ষামুখী দৃষ্টিভঙ্গি যদি এভাবেই এগোয়, তবে তার ফল কেবল একটি মেয়াদের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা বহু বছর ধরে প্রতিফলিত হবে।
রাষ্ট্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে বন্যা, পাহাড়ধস, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতা—এসব শব্দ রাজনীতির বাইরের বাস্তবতা নয়; এগুলো মানুষের জীবনের অংশ। তাই দুর্যোগের সময় সরকারের আচরণই তার মানবিকতা যাচাইয়ের প্রকৃত মানদণ্ড। ত্রাণ পৌঁছানো, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো, দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া, এবং স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর করা এসব যদি সত্যিই দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে করা হয়ে থাকে, তবে সেটি অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। কারণ প্রকৃত নেতা বিপদের দিনে চেনা যায়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি শাসনব্যবস্থাকে সরলতার পথে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। ব্যক্তিপূজার ফেস্টুন, বাহুল্যপূর্ণ আয়োজন, অবাস্তব প্রোটোকল এসব থেকে সরে আসা কেবল দৃষ্টিনন্দন পরিবর্তন নয়, এটি নৈতিক পরিবর্তনও।
একজন নেতা যখন নিজের আড়ম্বর কমাতে পারেন, তখন তিনি জনগণের কষ্ট বুঝতে আরও সক্ষম হন। রাষ্ট্রের অর্থ যদি অপ্রয়োজনে খরচ না হয়ে বাস্তব উন্নয়নে যায়, তাহলে সেটি মিতব্যয়িতা নয় শুধু, রাষ্ট্রনৈতিক প্রজ্ঞাও বটে। এই মিতব্যয়িতার নীতি যদি টিকে যায়, তবে তা ভবিষ্যতে একটি সতর্ক, দায়িত্বশীল প্রশাসনিক সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।
পররাষ্ট্রনীতির দিকেও নতুন আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। “বাংলাদেশ ফার্স্ট” ধারণাটি যদি কেবল রাজনৈতিক বাক্য না হয়ে বাস্তব কূটনৈতিক অবস্থান হয়, তবে তা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে ছোট বা বড় দেশ বলে কিছু নেই; আছে স্বার্থ, মর্যাদা, সামর্থ্য, এবং কৌশল। বাংলাদেশকে তাই অন্যের ছায়ায় নয়, নিজের আলোয় দাঁড়াতে হবে। শ্রমবাজার, বাণিজ্য, কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমতা ও আত্মমর্যাদার অবস্থান তৈরি করতে হবে। দেশের স্বার্থ যেন কখনো আপসের নরম বালিশে হারিয়ে না যায়, সেটিই একজন রাষ্ট্রনায়কের বড় দায়িত্ব।
তবে সব কিছুর মাঝেও বাস্তবতার কঠোরতা ভুলে গেলে চলবে না। বাংলাদেশ ভাঙা অর্থনীতি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, অনিয়মের উত্তরাধিকার, এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। তাই পাঁচ মাসে সবকিছু নিখুঁত হয়ে যাবে এমন ধারণা অবাস্তব। বরং এই সময়টিকে দেখতে হবে ভিত্তি নির্মাণের সময় হিসেবে। ভিত্তি যদি মজবুত হয়, ভবিষ্যতের ঘরও স্থায়ী হয়। আর ভিত্তি যদি দুর্বল হয়, তাহলে উপরিভাগ যতই ঝলমলে হোক, তা ভেঙে পড়তে সময় লাগে না। সুতরাং সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, ঘোষণাকে কর্মে রূপ দেওয়া, প্রতিশ্রুতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, এবং অনিয়মের জায়গায় জবাবদিহি স্থাপন করা।
একজন রাজনৈতিক নেতার মূল্যায়ন তখনই পূর্ণ হয়, যখন আমরা তাঁর সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর চারপাশের দলীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোকেও দেখি। ভালো নেতৃত্ব অনেক সময় দুর্বল দলের ভেতর আটকে যায়। আবার ভালো দলের ভেতরেও ভুল লোক প্রবেশ করলে অর্জন ম্লান হয়। তাই দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক লোককে সঠিক জায়গায় বসানো, ত্যাগী ও যোগ্য মানুষকে মূল্যায়ন করা, এবং সুবিধাবাদী বলয়কে দূরে রাখা। রাজনৈতিক আন্দোলন ত্যাগীদের রক্তে গড়ে ওঠে; তাই রাষ্ট্র পরিচালনাও ত্যাগীদের সম্মানে হতে হবে। যারা দুঃসময়ে দলকে ধরে রেখেছে, মানুষের পাশে থেকেছে, গুম-খুন-নির্যাতনের ভেতরেও সাহস হারায়নি, তাদের অবমূল্যায়ন করলে রাজনীতির আত্মা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমি নিজেও বিএনপির পরিবারের সন্তান হিসেবে এই বিষয়টি গভীরভাবে অনুভব করি। আমার পরিবারে রাজনীতি কোনো নতুন আবেগ নয়; এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মের অভিজ্ঞতা। আমি দেখেছি, আদর্শের জন্য কীভাবে মানুষ কষ্ট সহ্য করে, অপমান সহ্য করে, নিঃসঙ্গতাকে বয়ে বেড়ায়। বিশেষ করে মোঃ ইলিয়াস আলীর দীর্ঘ নিখোঁজ থাকা আমাদের পরিবারের জন্য কেবল ব্যক্তিগত বেদনা নয়, এটি জাতীয় বিবেকেরও এক না-মোছা ক্ষত। এই ক্ষত মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র কেবল ব্যালটের নাম নয়; গণতন্ত্র হলো মানুষের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশ, সম্মান এবং জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার নাম। জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যদি সেই মানবিক রাষ্ট্রকাঠামোর দিকে যাত্রা শুরু হয়ে থাকে, তবে সেটি স্বাগতযোগ্য। একজন নেতাকে আমি কেবল তাঁর কথায় মাপি না; মাপি তিনি কীভাবে ভাঙা মানুষের বিশ্বাস জোড়া লাগান। রাষ্ট্রীয় কার্ড, কৃষি সহায়তা, শিক্ষা বিনিয়োগ, নারীসুরক্ষা, দুর্যোগে মানবিকতা, প্রশাসনিক সরলতা, কূটনৈতিক আত্মমর্যাদা এসব উপাদান একত্রে একটি রাজনৈতিক দর্শন গড়ে তোলে। আর এই দর্শন যদি জনগণকে কেন্দ্র করে হয়, তবে সেটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষ আজ আর শুধু উন্নয়ন শব্দটি শুনে সন্তুষ্ট হয় না; তারা উন্নয়নের স্পর্শ চায়। রাস্তা, আলো, স্কুল, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, এবং মর্যাদা এসবের সমন্বয়ই তাদের জীবনের সত্যিকারের উন্নয়ন। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এখন এমন এক সময় পার করছে, যেখানে একটি সৎ, সাহসী, দূরদর্শী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব বহুদিনের শূন্যতা পূরণ করতে পারে। তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমান যদি জনগণের ভাষা আরও গভীরভাবে শোনেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করেন, প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনেন, এবং মেধা-সততা-ত্যাগকে মর্যাদা দেন, তবে তাঁর নেতৃত্ব কেবল এক মেয়াদের সাফল্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা জাতীয় ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠবে। কারণ নেতৃত্বের আসল পরিচয় হচ্ছে তিনি কত মানুষকে সামনে এগিয়ে নিতে পেরেছেন, কতটা ভরসা ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন, কতটা অন্ধকারে আলো জ্বালাতে পেরেছেন।
শেষ পর্যন্ত, এই পাঁচ মাসকে আমি দেখি আশার একটি সূচনা হিসেবে। পূর্ণতা এখনো দূরে, কিন্তু পথ শুরু হয়েছে। এবং সেই পথ যদি সত্যিই জনগণের হয়, গণতন্ত্রের হয়, ন্যায়বোধের হয়, ত্যাগীদের সম্মানের হয়, আর বাংলাদেশের মর্যাদার হয়, তবে এই যাত্রা একদিন ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। আমি একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে, একজন বাংলাদেশি নারী হিসেবে, এবং একজন আশাবাদী নাগরিক হিসেবে চাই এই দেশ আর কখনো অন্ধকারের কাছে হার না মানুক। রাষ্ট্র হোক মানুষের, রাজনীতি হোক সেবার, আর নেতৃত্ব হোক জনগণের আস্থা ও ভবিষ্যতের নাম। দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতে সেই সম্ভাবনার বীজ এখন রোপিত হয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই বীজকে যত্ন, প্রজ্ঞা, সাহস এবং জনগণের ভালোবাসায় একটি মহান বৃক্ষে রূপ দেওয়া। সেই বৃক্ষের ছায়ায় বাংলাদেশ একদিন নিশ্চয়ই আরও মর্যাদাবান, আরও মানবিক, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।
লেখক : জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট 






















