ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

ভাঙনে হুমকিতে কুয়াকাটা সৈকত, পরিদর্শনে সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৪১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ভয়াবহ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ বি এম মোশাররফ হোসেন। সৈকতের অব্যাহত ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সবুজ বনভূমি ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সৈকতের ভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। ভাঙনের কারণে তাঁদের কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্যের কাছে সৈকত রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ারের প্রভাবে সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। এতে সৈকতসংলগ্ন স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সবুজ বনভূমি ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কুয়াকাটার পর্যটন অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সৈকতের সৌন্দর্য ও পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন স্থানীয়দের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কুয়াকাটা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এ সৈকত রক্ষা করা শুধু স্থানীয় মানুষের স্বার্থের বিষয় নয়, বরং দেশের পর্যটন ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি মো. জলিল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান পারভেজ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আজিজ মুসল্লী, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবলু, কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন এখন আর শুধু সৈকতের সৌন্দর্যহানির বিষয় নয়; এটি পর্যটনকেন্দ্রটির অবকাঠামো, পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। তাই ভাঙন রোধে সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোমে বিমানের ভেতর ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা আড়াই শতাধিক যাত্রী

ভাঙনে হুমকিতে কুয়াকাটা সৈকত, পরিদর্শনে সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন

প্রকাশিত : ০৮:৪১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ভয়াবহ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ বি এম মোশাররফ হোসেন। সৈকতের অব্যাহত ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সবুজ বনভূমি ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সৈকতের ভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। ভাঙনের কারণে তাঁদের কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্যের কাছে সৈকত রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ারের প্রভাবে সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। এতে সৈকতসংলগ্ন স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সবুজ বনভূমি ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কুয়াকাটার পর্যটন অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সৈকতের সৌন্দর্য ও পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন স্থানীয়দের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কুয়াকাটা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এ সৈকত রক্ষা করা শুধু স্থানীয় মানুষের স্বার্থের বিষয় নয়, বরং দেশের পর্যটন ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি মো. জলিল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান পারভেজ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আজিজ মুসল্লী, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবলু, কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন এখন আর শুধু সৈকতের সৌন্দর্যহানির বিষয় নয়; এটি পর্যটনকেন্দ্রটির অবকাঠামো, পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। তাই ভাঙন রোধে সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।