ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সৈয়দপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের ৩ দিনের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদেরকে গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধি করতে হবে। আদর্শ চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্যোসাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা, সতর্কতা অবলম্বনপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের সমস্যা উপলদ্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের  উদ্যোগে  জেলা/মহানগরী দায়িত্বশীলদের নিয়ে (১৩ থেকে ১৫ আগস্ট) ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত ওই শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম। এতে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপনা করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. দেলওয়ার হোসেন।
সেক্রেটারি জেনারেল ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন- বর্তমান সরকার ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে তার প্রতিবাদে ও জনগনের দাবী বাস্তবায়নে ১১ দল রোড মার্চ সহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন,  সংগঠন পরিচালনা করার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবার সুরক্ষা ও গঠনের প্রতি নজর রাখতে হবে। নেতৃবৃন্দকে প্রতিনিয়ত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদেরকে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে পথ চলতে হবে।
মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংগঠনের মেজাজ ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে দায়িত্বশীলদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে। মেজাজ ও পরিবেশ ক্ষুন্ন করতে পারে এমন সব কাজ পরিহার করতে হবে। পরস্পরের দোষত্রুটি ব্যক্তিগত দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা চালাতে হবে। নিজেদের অহংকারমুক্ত রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে সংগঠনের কাছে ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে ময়দানে কাজ করতে হবে।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ৩ দিনের প্রশিক্ষণকে ধারণ করে আগামী দিনে সংগঠনকে মজবুত, গতিশীল ও গণমুখী করতে হবে। বিগত নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের মানুষ জামায়াতের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে কাজের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহ অসংখ্যা নেতাকর্মীর ত্যাগ-কুরবানীর ফলে অর্জিত সংগঠনের বর্তমান অবস্থানকে আরও মজবুত  ও সম্প্রসারিত করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে কুরআন-হাদীস অনুশীলন, বই ও বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ আলোচনা পরিচালনা করেন অঞ্চল টীম ও জেলা/ মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ। ৩ দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টীম সদস্য ফকীহ মাওলানা আব্দুল হাকিম। নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপির নেতৃত্বে নীলফামারী জেলা সংগঠন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

সৈয়দপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের ৩ দিনের শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ১১:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদেরকে গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধি করতে হবে। আদর্শ চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্যোসাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা, সতর্কতা অবলম্বনপূর্বক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের সমস্যা উপলদ্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের  উদ্যোগে  জেলা/মহানগরী দায়িত্বশীলদের নিয়ে (১৩ থেকে ১৫ আগস্ট) ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত ওই শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম। এতে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপনা করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. দেলওয়ার হোসেন।
সেক্রেটারি জেনারেল ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন- বর্তমান সরকার ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে তার প্রতিবাদে ও জনগনের দাবী বাস্তবায়নে ১১ দল রোড মার্চ সহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন,  সংগঠন পরিচালনা করার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবার সুরক্ষা ও গঠনের প্রতি নজর রাখতে হবে। নেতৃবৃন্দকে প্রতিনিয়ত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদেরকে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে পথ চলতে হবে।
মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংগঠনের মেজাজ ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে দায়িত্বশীলদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে। মেজাজ ও পরিবেশ ক্ষুন্ন করতে পারে এমন সব কাজ পরিহার করতে হবে। পরস্পরের দোষত্রুটি ব্যক্তিগত দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা চালাতে হবে। নিজেদের অহংকারমুক্ত রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে সংগঠনের কাছে ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে ময়দানে কাজ করতে হবে।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ৩ দিনের প্রশিক্ষণকে ধারণ করে আগামী দিনে সংগঠনকে মজবুত, গতিশীল ও গণমুখী করতে হবে। বিগত নির্বাচনে রংপুর অঞ্চলের মানুষ জামায়াতের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছে কাজের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহ অসংখ্যা নেতাকর্মীর ত্যাগ-কুরবানীর ফলে অর্জিত সংগঠনের বর্তমান অবস্থানকে আরও মজবুত  ও সম্প্রসারিত করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে কুরআন-হাদীস অনুশীলন, বই ও বিষয়ভিত্তিক গ্রুপ আলোচনা পরিচালনা করেন অঞ্চল টীম ও জেলা/ মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ। ৩ দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টীম সদস্য ফকীহ মাওলানা আব্দুল হাকিম। নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপির নেতৃত্বে নীলফামারী জেলা সংগঠন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন।