ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডুয়েটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি বিষয়ক টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের আয়োজনে টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর বিভাগের স্নাতক সমাপনী বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিল্পকারখানায় কর্মীদের নিরাপত্তা, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এবং কার্যকর হেলথ, সেফটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (HSE) ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। সেমিনারে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের দুইজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সেশন পরিচালনা করেন।
ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল “Fire and Electrical Safety in Industrial Facilities: Risks, Prevention and Best Practices” শিরোনামে সেমিনারের প্রথম সেশন পরিচালনা করেন। আলোচনায় তিনি শিল্পকারখানায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার পেছনে থাকা সাধারণ কারণগুলো তুলে ধরেন, যেমন- ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ, ওভারলোডিং, নিম্নমানের তার ও যন্ত্রাংশের ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং দাহ্য পদার্থের অনিরাপদ সংরক্ষণ। এসব দুর্ঘটনার ফলে অঙ্গহানি, জীবনহানি, আর্থিক ক্ষতি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামের ক্ষতির মতো সম্ভাব্য পরিণতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। যার মধ্যে নিয়মিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন, মানসম্পন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার, সঠিক আর্থিং ব্যবস্থা এবং সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজের যথাযথ ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা বৈদ্যুতিক কাজ সম্পাদন এবং লক-আউট/ট্যাগ-আউট (LOTO) পদ্ধতির অনুসরণ দুর্ঘটনা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অগ্নিঝুঁকি হ্রাসের কৌশল হিসেবে তিনি ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিংকলার ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র যথাস্থানে স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
“Fundamentals of Health, Safety and Environment (HSE) Management in Industry” শিরোনামে সেমিনারের দ্বিতীয় সেশন পরিচালনা করেন সিনজেনটা বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ইঞ্জি. মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি শিল্পক্ষেত্রে HSE ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেন, যেখানে কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং নিরাপদ ও টেকসই শিল্প পরিচালনায় সুসংগঠিত HSE ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ হলো যেকোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ, যেখানে সম্ভাব্য বিপদজনক উৎস, যেমন- যান্ত্রিক ঝুঁকি, রাসায়নিক এক্সপোজার, শব্দদূষণ বা এরগোনমিক সমস্যা শনাক্ত করা হয়। এরপর তিনি ঝুঁকি মূল্যায়নের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন, যেখানে প্রতিটি ঝুঁকির সম্ভাব্যতা ও তীব্রতা বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়, যাতে সীমিত সম্পদ দিয়েও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলো আগে মোকাবিলা করা যায়।
সেমিনারে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ শিল্পনিরাপত্তার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান সম্পর্কে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্প ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও অপারেশনাল উৎকর্ষতাকে সমন্বিত করার গুরুত্বও বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।

নীলফামারীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

ডুয়েটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি বিষয়ক টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ০৮:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের আয়োজনে টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর বিভাগের স্নাতক সমাপনী বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিল্পকারখানায় কর্মীদের নিরাপত্তা, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এবং কার্যকর হেলথ, সেফটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (HSE) ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। সেমিনারে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের দুইজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ দুটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সেশন পরিচালনা করেন।
ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল “Fire and Electrical Safety in Industrial Facilities: Risks, Prevention and Best Practices” শিরোনামে সেমিনারের প্রথম সেশন পরিচালনা করেন। আলোচনায় তিনি শিল্পকারখানায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার পেছনে থাকা সাধারণ কারণগুলো তুলে ধরেন, যেমন- ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ, ওভারলোডিং, নিম্নমানের তার ও যন্ত্রাংশের ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং দাহ্য পদার্থের অনিরাপদ সংরক্ষণ। এসব দুর্ঘটনার ফলে অঙ্গহানি, জীবনহানি, আর্থিক ক্ষতি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামের ক্ষতির মতো সম্ভাব্য পরিণতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। যার মধ্যে নিয়মিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন, মানসম্পন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার, সঠিক আর্থিং ব্যবস্থা এবং সার্কিট ব্রেকার ও ফিউজের যথাযথ ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত ছিল। নিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত জনবল দ্বারা বৈদ্যুতিক কাজ সম্পাদন এবং লক-আউট/ট্যাগ-আউট (LOTO) পদ্ধতির অনুসরণ দুর্ঘটনা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অগ্নিঝুঁকি হ্রাসের কৌশল হিসেবে তিনি ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিংকলার ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র যথাস্থানে স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
“Fundamentals of Health, Safety and Environment (HSE) Management in Industry” শিরোনামে সেমিনারের দ্বিতীয় সেশন পরিচালনা করেন সিনজেনটা বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ইঞ্জি. মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি শিল্পক্ষেত্রে HSE ব্যবস্থাপনার মৌলিক ধারণা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেন, যেখানে কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং নিরাপদ ও টেকসই শিল্প পরিচালনায় সুসংগঠিত HSE ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ হলো যেকোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ, যেখানে সম্ভাব্য বিপদজনক উৎস, যেমন- যান্ত্রিক ঝুঁকি, রাসায়নিক এক্সপোজার, শব্দদূষণ বা এরগোনমিক সমস্যা শনাক্ত করা হয়। এরপর তিনি ঝুঁকি মূল্যায়নের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন, যেখানে প্রতিটি ঝুঁকির সম্ভাব্যতা ও তীব্রতা বিশ্লেষণ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়, যাতে সীমিত সম্পদ দিয়েও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলো আগে মোকাবিলা করা যায়।
সেমিনারে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ শিল্পনিরাপত্তার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান সম্পর্কে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্প ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা, পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও অপারেশনাল উৎকর্ষতাকে সমন্বিত করার গুরুত্বও বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।