দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর নরসিংদী জেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া কারখানাগুলোতে ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। গ্যাসের চাপ বাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিল্পমালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট চলছিল। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়। কোনো কোনো কারখানায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম সময় উৎপাদন চালানো হচ্ছিল। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।
তবে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ আগের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেক কারখানায় তুলনামূলক ভালো চাপ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে উৎপাদন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে যেসব কারখানায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল, সেগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিল্পমালিকরা বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ নিয়ে চরম ভোগান্তিতে ছিলাম। উৎপাদন চালু রাখতে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি।
শ্রমিকদেরও প্রত্যাশা, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মঘণ্টা ও কাজের পরিবেশ আগের মতো স্বাভাবিক হবে।
তবে শিল্পমালিকদের দাবি, সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ বাড়লেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।
নরসিংদীর শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহের এই উন্নতি অব্যাহত থাকলে জেলার শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















