ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানির বাড়তি কর বাতিলের দাবিতে পাকিস্তান জামায়াতের ট্রেন মার্চ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৪:০০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘ট্রেন মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী (জেআই)। রোববার করাচি থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।

পাঞ্জাব থেকে ‘ট্রেন মার্চ’ কর্মসূচি শুরুর আগে করাচির ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার যদি অনতিবিলম্বে এই বাড়তি কর বাতিল না করে, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর এই আন্দোলন সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

পাকিস্তানের জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমাদের সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুযায়ী সারাদেশ থেকে আপামর জনসাধারণ এখন ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে পথ চলছে। ট্রেন মার্চের পাশাপাশি হাজার হাজার যানবাহন নিয়ে সড়কপথেও বিশাল বিশাল গাড়িবহর রাজধানীর দিকে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, দলের এই বিশাল মোটরশোভাযাত্রা ও ট্রেনের বহর হায়দরাবাদ, লান্ধি, নওয়াবশাহ, রুহড়ি ও সুক্কুর হয়ে সামনে এগোবে। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছালে দলের নারী কর্মীদেরও রাজপথে নেমে আসার ডাক দেওয়া হবে।

ট্রেন মার্চের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মূল্যস্ফীতিতে পিষ্ট সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে সরকার নিজেদের চরম অপশাসন ও ব্যর্থতার মাসুল সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি, জোরপূর্বক আদায় করা এই বাড়তি কর অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘এটা তুলে নিলেই লিটারপ্রতি তেলের দাম এক ধাক্কায় কমে ২০০ রুপির কাছাকাছি চলে আসবে। আর তখনই কেবল ধুঁকতে থাকা দেশের অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়াবে।’’

দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা হুমকির কথা তুলে ধরে ট্রেন মার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে পাকিস্তানের সরকার। তবে জামায়াত নেতা লিয়াকত বালুচ বলেন, জনগণের কাঁধ থেকে অন্যায্য কর না সরানো পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। ফলে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই বৈঠকটি ভেস্তে যায়।

গত ১৬ আগস্ট থেকে লাহোর, পেশোয়ার, করাচিসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে জামায়াত। পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক শুরু হলেও তাতে কোনও সুরাহা মেলেনি।

এদিকে, পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং একাধিক দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদে পৃথকভাবে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পদযাত্রা পেছানোর অনুরোধ জানানো হলেও পিটিআই তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

জ্বালানির বাড়তি কর বাতিলের দাবিতে পাকিস্তান জামায়াতের ট্রেন মার্চ

প্রকাশিত : ০৪:০০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘ট্রেন মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী (জেআই)। রোববার করাচি থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।

পাঞ্জাব থেকে ‘ট্রেন মার্চ’ কর্মসূচি শুরুর আগে করাচির ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার যদি অনতিবিলম্বে এই বাড়তি কর বাতিল না করে, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর এই আন্দোলন সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

পাকিস্তানের জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমাদের সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুযায়ী সারাদেশ থেকে আপামর জনসাধারণ এখন ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে পথ চলছে। ট্রেন মার্চের পাশাপাশি হাজার হাজার যানবাহন নিয়ে সড়কপথেও বিশাল বিশাল গাড়িবহর রাজধানীর দিকে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, দলের এই বিশাল মোটরশোভাযাত্রা ও ট্রেনের বহর হায়দরাবাদ, লান্ধি, নওয়াবশাহ, রুহড়ি ও সুক্কুর হয়ে সামনে এগোবে। পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছালে দলের নারী কর্মীদেরও রাজপথে নেমে আসার ডাক দেওয়া হবে।

ট্রেন মার্চের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মূল্যস্ফীতিতে পিষ্ট সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে সরকার নিজেদের চরম অপশাসন ও ব্যর্থতার মাসুল সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি, জোরপূর্বক আদায় করা এই বাড়তি কর অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘এটা তুলে নিলেই লিটারপ্রতি তেলের দাম এক ধাক্কায় কমে ২০০ রুপির কাছাকাছি চলে আসবে। আর তখনই কেবল ধুঁকতে থাকা দেশের অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়াবে।’’

দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা হুমকির কথা তুলে ধরে ট্রেন মার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে পাকিস্তানের সরকার। তবে জামায়াত নেতা লিয়াকত বালুচ বলেন, জনগণের কাঁধ থেকে অন্যায্য কর না সরানো পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। ফলে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই বৈঠকটি ভেস্তে যায়।

গত ১৬ আগস্ট থেকে লাহোর, পেশোয়ার, করাচিসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে জামায়াত। পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক শুরু হলেও তাতে কোনও সুরাহা মেলেনি।

এদিকে, পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং একাধিক দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদে পৃথকভাবে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পদযাত্রা পেছানোর অনুরোধ জানানো হলেও পিটিআই তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।