ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

দুই হাত না থাকলেও দমে যাননি, পা দিয়ে লিখে ১৪৫ শিশুকে পড়াচ্ছেন লড়াকু শিক্ষক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

দুই হাত নেই। অথচ পা দিয়েই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করেন আলতাফ হোসেন, যিনি এলাকায় দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি। বরং জীবনের প্রতিটি বাধাকে অতিক্রম করে পড়াশোনা শেষ করেছেন, চাকরির জন্য ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে। চাকরি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের পৈতৃক জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি বিদ্যালয়। সেই বিদ্যালয়ে এখন পড়াশোনা করছে ১৪৫ শিশু।

নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় ১৯৬২ সালে জন্ম আলতাফ হোসেনের। তার বাবার নাম মৃত তমিজ উদ্দিন। জন্মের পর থেকেই দুই হাত না থাকায় কষ্ট পেয়েছিলেন তার মা-বাবা। জন্মের পরই তার তিন ভাই মারা যায়। দাদা আদর-আক্ষেপ মিশিয়ে নাতির নাম রাখেন দুঃখু মিয়া। নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি।

পাঁচদোনা ইউনিয়নের দিঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় তার পড়াশোনা। হাত না থাকায় পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন ছোটবেলাতেই।

পা দিয়ে কীভাবে লেখা শিখলেন এ প্রসঙ্গে দুঃখু মিয়া বলেন, তার বাবা তাকে এই পদ্ধতিতে লেখা শেখান। পাতিলের কালি ও পানি মিশিয়ে কঞ্চি কলাপাতায় রেখে দুই পায়ের আঙুলের ফাঁকে ধরে ধীরে ধীরে তাকে লেখার অভ্যাস করানো হয়। সেই শুরু। এরপর পা দিয়েই লিখে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কালকিনিতে অতিরিক্ত মজুদের দায়ে ১৪০ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা ২০ হাজার টাকা

দুই হাত না থাকলেও দমে যাননি, পা দিয়ে লিখে ১৪৫ শিশুকে পড়াচ্ছেন লড়াকু শিক্ষক

প্রকাশিত : ০৬:০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দুই হাত নেই। অথচ পা দিয়েই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করেন আলতাফ হোসেন, যিনি এলাকায় দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি। বরং জীবনের প্রতিটি বাধাকে অতিক্রম করে পড়াশোনা শেষ করেছেন, চাকরির জন্য ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে। চাকরি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের পৈতৃক জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি বিদ্যালয়। সেই বিদ্যালয়ে এখন পড়াশোনা করছে ১৪৫ শিশু।

নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় ১৯৬২ সালে জন্ম আলতাফ হোসেনের। তার বাবার নাম মৃত তমিজ উদ্দিন। জন্মের পর থেকেই দুই হাত না থাকায় কষ্ট পেয়েছিলেন তার মা-বাবা। জন্মের পরই তার তিন ভাই মারা যায়। দাদা আদর-আক্ষেপ মিশিয়ে নাতির নাম রাখেন দুঃখু মিয়া। নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি তিনি।

পাঁচদোনা ইউনিয়নের দিঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় তার পড়াশোনা। হাত না থাকায় পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন ছোটবেলাতেই।

পা দিয়ে কীভাবে লেখা শিখলেন এ প্রসঙ্গে দুঃখু মিয়া বলেন, তার বাবা তাকে এই পদ্ধতিতে লেখা শেখান। পাতিলের কালি ও পানি মিশিয়ে কঞ্চি কলাপাতায় রেখে দুই পায়ের আঙুলের ফাঁকে ধরে ধীরে ধীরে তাকে লেখার অভ্যাস করানো হয়। সেই শুরু। এরপর পা দিয়েই লিখে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস করেন তিনি।