রাজস্থলী প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের কুদুমছড়া পাড়ার মংহলাউ মারামার ছেলে আছোমং মারমা। যুবক কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছা আর সঠিক দূরদর্শিতা থাকলে যে পার্বত্য অঞ্চলের অনাবাদী ও দুর্গম রূপকেও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা সম্ভব—তা আবারও প্রমাণ করলেন রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া কুদুমছড়া এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা আছোমং মারমা।
সমন্বিত কৃষি ও পশু খামার গড়ে তুলে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে গ্রহণ করেছেন গৌরবময় সম্মাননা স্মারক ও এক লক্ষ টাকার চেক।রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কক্ষে’ আয়োজিত এক জমকালো শুভ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক।
পাহাড়ে সফলতার নতুন দিগন্ত রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কুটুরিয়া পাড়ার মংহলাউ মারামার সন্তান আছোমং মারমা। বেকারত্বের শিকল ভেঙে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে তিনি শুরু করেন পশু খামার ব্যবসা। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে উন্নত জাতের গরু পালন এবং শূকর খামার স্থাপন করে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।
বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে উন্নত জাতের হৃষ্টপুষ্ট গরু ও সুসংগঠিত শূকর পালন প্রকল্প। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল তাঁকেই স্বাবলম্বী করেনি, বরং এলাকার বেশ কয়েকজন বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মহতী স্বীকৃতি ও আবেগঘন মুহূর্ত জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় যুব ও উদ্যোক্তা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণের শুভ মুহূর্তে পুরো পার্বত্য অঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় উদ্যোক্তা আছোমং মারমা জানান, “এই সম্মাননা শুধু আমার একার নয়; এটি পুরো রাজস্থলী ও পার্বত্যবাসীর সম্মান। সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায় থাকলে পাহাড়ের মাটিতেও সোনা ফলানো সম্ভব। আমার এই স্বীকৃতি পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”এলাকাজুড়ে আনন্দ ও প্রশংসার জোয়ার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নসহ পুরো রাজস্থলী উপজেলায় এখন আনন্দের আমেজ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ আছোমং মারমাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তাঁর এই সফলতা পাহাড়ের কৃষি ও পশু পালন খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। আছোমং মারমা প্রথমে রাজস্থলী উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ঋণ নিয়ে গবাদি পশুর খামার গড়ে তুলতে পরে কাপ্তাই কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ নেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















