ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

​ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে উত্তাল গাজীপুর: সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও বিজিবি মোতায়েন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

গাজীপুর প্রতিনিধি: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের সঙ্গে সংগতি রেখে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকরা। রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকায় এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সাড় পাঁচ ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
​১৫ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট, ভোগান্তি
শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে চন্দ্রা থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যাত্রী ও পথচারী তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থেকে শিশু ও বয়স্কদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও কালিয়াকৈর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ বক্সে আগুন ও যানবাহন ভাঙচুর আন্দোলনের একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কোনাবাড়ী শিল্প ও মেট্রো ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বাধা সৃষ্টি করা হলে আতঙ্কে এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। চন্দ্রা, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ‘ট্রপিক্যাল’ কারখানার একটি ঝুট গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে দেওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
​সংঘর্ষ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে বিজিবির ৫ প্লাটুন সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশ, সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে মাঠে নামে। বেলা ১টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে হটিয়ে দেয় পুলিশ।
​জীবনযাত্রার ব্যয়ে অতিষ্ঠ শ্রমিকদের ক্ষোভ
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে সামান্য বেতনে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুমি নামে এক নারী শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের হয় বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হোক, না হয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেওয়া হোক।”
​প্রশাসনের বক্তব্য নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, সকাল ৯টা থেকে চলা এই অবরোধ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর দূর হলে সড়কে গাড়ি চলাচল পুনরায় চালু হয়। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
​গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, শিল্পাঞ্চলের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এবং আইনপ্রয়োগে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা

​ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে উত্তাল গাজীপুর: সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশিত : ০৭:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধি: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের সঙ্গে সংগতি রেখে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকরা। রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকায় এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সাড় পাঁচ ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
​১৫ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট, ভোগান্তি
শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে চন্দ্রা থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যাত্রী ও পথচারী তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থেকে শিশু ও বয়স্কদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও কালিয়াকৈর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ বক্সে আগুন ও যানবাহন ভাঙচুর আন্দোলনের একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কোনাবাড়ী শিল্প ও মেট্রো ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বাধা সৃষ্টি করা হলে আতঙ্কে এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। চন্দ্রা, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ‘ট্রপিক্যাল’ কারখানার একটি ঝুট গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে দেওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
​সংঘর্ষ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে বিজিবির ৫ প্লাটুন সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশ, সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে মাঠে নামে। বেলা ১টার দিকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে হটিয়ে দেয় পুলিশ।
​জীবনযাত্রার ব্যয়ে অতিষ্ঠ শ্রমিকদের ক্ষোভ
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে সামান্য বেতনে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুমি নামে এক নারী শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের হয় বেতন বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হোক, না হয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেওয়া হোক।”
​প্রশাসনের বক্তব্য নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, সকাল ৯টা থেকে চলা এই অবরোধ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর দূর হলে সড়কে গাড়ি চলাচল পুনরায় চালু হয়। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
​গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, শিল্পাঞ্চলের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এবং আইনপ্রয়োগে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।