শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদ দিয়ে চাকরি করে এমপিওভুক্ত হওয়ায় তিন মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাদের এমপিওভুক্তির ইনডেক্স কর্তন এবং উত্তোলন করা বেতন-ভাতার সব টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অডিট আপত্তির ভিত্তিতে কক্সবাজারের একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ইনডেক্স স্থায়ীভাবে কর্তন করা হয়েছে। তাকে উত্তোলন করা ৭৮ লাখ ২২ হাজার ৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখার পৃথক চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া ওহাবুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ি প্রধান মো. মোফাজ্জল হোসেনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল ও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার ইনডেক্স নম্বর এন২১২০৩৭৮। তিনি ষষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১০-এর ৩১৪০৩৭৩৮ রোল নম্বর ও ১০০০০০৭৬৭৮ নিবন্ধন নম্বরের সনদ জমা দিয়েছিলেন। তবে সনদে উল্লেখ করা নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সংরক্ষিত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।
একইভাবে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ি প্রধান মো. ইলিয়াস মিয়ার শিক্ষক নিবন্ধন সনদও জাল ও ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে এনটিআরসিএ। তার ইনডেক্স নম্বর এন২১২৫২৩৪। তিনি সপ্তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১১-এর ৩১৪৩৮৪৩৪ রোল নম্বর ও ১০০০০৪৭৪০৯১ নিবন্ধন নম্বরের সনদ জমা দিয়েছিলেন। তার সনদে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এনটিআরসিএর সংরক্ষিত ফলাফলের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার টাংগাব ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) শামসুন্নার অনন্যার শিক্ষক নিবন্ধন সনদেও অসংগতি পেয়েছে এনটিআরসিএ। তার ইনডেক্স নম্বর এম০০৮১২২৮। তিনি ষষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০১০-এর ৩০২০৩০৫৬২ রোল নম্বর ও ১৭২০২০০১৮৫৮৭ নিবন্ধন নম্বরের সনদ জমা দিয়েছিলেন। তার দাখিল করা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা এবং প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এনটিআরসিএর সংরক্ষিত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।
এনটিআরসিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিন শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ সঠিক নয় এবং সেগুলো জাল ও ভুয়া। এর ভিত্তিতে তাদের এমপিওভুক্তির ইনডেক্স কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধানদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে জাল সনদধারীদের আবেদন পাঠানো যাবে না। ইতোমধ্যে ওই শিক্ষকেরা যে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন, তার সব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে মামলার প্রমাণসহ অধিদপ্তরকে জানাতে হবে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমির হোসেনের ইনডেক্স স্থায়ীভাবে কর্তন করেছে অধিদপ্তর। তার ইনডেক্স নম্বর সি৩১৫২৬৮। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) অডিট প্রতিবেদনের সুপারিশ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অধ্যক্ষ মো. আমির হোসেন ৭৮ লাখ ২২ হাজার ৭৫ টাকা বেতন-ভাতা হিসেবে উত্তোলন করেছেন। এই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়া এবং তার ইনডেক্স স্থায়ীভাবে কর্তনের জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ গত ১৩ অক্টোবর নির্দেশনা দেয়। পরে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তার ইনডেক্স স্থায়ীভাবে কর্তন করা হয়। একই সঙ্গে উত্তোলন করা পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















