ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

দুমকিতে দুদকের অভিযানে বিভিন্ন প্রকল্পের দূর্নীতি ফাঁস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

দুমকি প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংঘটিত হয়েছে নজিরবিহীন দূর্নীতি। নামমাত্র কাজ বা সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি বিশেষ তদন্ত টিম।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী আকস্মিক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই ভয়াবহ দুর্নীতির সত্যতা নিশ্চিত করে টিমটি।

ছোট আকারের প্রকল্প এবং সীমিত বরাদ্দের আড়ালে এই দুর্নীতির পরিধি ও ভলিউম যে অত্যন্ত ব্যাপক, তা তদন্ত দলের চোখে আঙুল দিয়ে ধরা পড়েছে।
দুমকি উপজেলা পরিষদের গাড়ি ধৌত করার র‌্যাম্পের সামনের স্থানে মাটি ভরাট ও ইট সোলিংকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো মাটিই ফেলা হয়নি। কেবল নামমাত্র ৮২৫টি ইট ব্যবহার দেখিয়ে ২ লাখ ৩শ ৭৪ টাকা (বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা) আত্মসাৎ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ মাঠ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের ফুল বাগানে মাটি ভরাটের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি দুদক টিম।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কুলসুম বেগমের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপন এবং চরবয়েড়া রাজী বাড়ি থেকে স্লুইস ঘাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি নিজেই এ বিষয়ে জানেন না।

লেবুখালী ইউনিয়নের মকবুল শরিফের বাড়ি থেকে সিদ্দিক শরিফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রায় ১০ বছর আগের পুরোনো রাস্তায় নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। এছাড়া মহাসড়ক থেকে শরিফ বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটের কোনো কাজই করা হয়নি। বরং ওই স্থানে ইতিমধ্যে এলজিইডির কার্পেটিং কাজ চলমান রয়েছে।

৫টি নির্বাচন কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ৫ জন ইউপি চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। তাদের দাবি, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং কোনো বরাদ্দ পাননি।

সাতানী আমির উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

দুদক তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টিআর ও কাবিখার প্রকল্পগুলো আপাতদৃষ্টিতে আকারে ছোট ও বরাদ্দ কম মনে হলেও এর সামগ্রিক দুর্নীতির জাল অত্যন্ত বিস্তৃত। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজের নামে প্রকল্প নিয়ে নিজেই টাকা উত্তোলন করলেও অনেকে আবার সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকে গেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তাপস বিশ্বাস এশিয়া পোস্ট’কে জানান, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও দেখভালের মূল দায়িত্বে রয়েছেন পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) এবং সংশ্লিষ্ট সভাপতিগন। মূলত তাদের পারস্পরিক যোগসাজশেই এই ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। তদন্ত কাজ শেষ হলে প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুমকিতে দুদকের অভিযানে বিভিন্ন প্রকল্পের দূর্নীতি ফাঁস

দুমকিতে দুদকের অভিযানে বিভিন্ন প্রকল্পের দূর্নীতি ফাঁস

প্রকাশিত : ১২:০৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

দুমকি প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংঘটিত হয়েছে নজিরবিহীন দূর্নীতি। নামমাত্র কাজ বা সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি বিশেষ তদন্ত টিম।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী আকস্মিক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই ভয়াবহ দুর্নীতির সত্যতা নিশ্চিত করে টিমটি।

ছোট আকারের প্রকল্প এবং সীমিত বরাদ্দের আড়ালে এই দুর্নীতির পরিধি ও ভলিউম যে অত্যন্ত ব্যাপক, তা তদন্ত দলের চোখে আঙুল দিয়ে ধরা পড়েছে।
দুমকি উপজেলা পরিষদের গাড়ি ধৌত করার র‌্যাম্পের সামনের স্থানে মাটি ভরাট ও ইট সোলিংকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো মাটিই ফেলা হয়নি। কেবল নামমাত্র ৮২৫টি ইট ব্যবহার দেখিয়ে ২ লাখ ৩শ ৭৪ টাকা (বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা) আত্মসাৎ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ মাঠ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের ফুল বাগানে মাটি ভরাটের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি দুদক টিম।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কুলসুম বেগমের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপন এবং চরবয়েড়া রাজী বাড়ি থেকে স্লুইস ঘাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি নিজেই এ বিষয়ে জানেন না।

লেবুখালী ইউনিয়নের মকবুল শরিফের বাড়ি থেকে সিদ্দিক শরিফের দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রায় ১০ বছর আগের পুরোনো রাস্তায় নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। এছাড়া মহাসড়ক থেকে শরিফ বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটের কোনো কাজই করা হয়নি। বরং ওই স্থানে ইতিমধ্যে এলজিইডির কার্পেটিং কাজ চলমান রয়েছে।

৫টি নির্বাচন কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ৫ জন ইউপি চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। তাদের দাবি, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং কোনো বরাদ্দ পাননি।

সাতানী আমির উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

দুদক তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টিআর ও কাবিখার প্রকল্পগুলো আপাতদৃষ্টিতে আকারে ছোট ও বরাদ্দ কম মনে হলেও এর সামগ্রিক দুর্নীতির জাল অত্যন্ত বিস্তৃত। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজের নামে প্রকল্প নিয়ে নিজেই টাকা উত্তোলন করলেও অনেকে আবার সম্পূর্ণ অন্ধকারে থেকে গেছেন।

এ বিষয়ে দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তাপস বিশ্বাস এশিয়া পোস্ট’কে জানান, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও দেখভালের মূল দায়িত্বে রয়েছেন পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) এবং সংশ্লিষ্ট সভাপতিগন। মূলত তাদের পারস্পরিক যোগসাজশেই এই ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। তদন্ত কাজ শেষ হলে প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।