ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬

কনকনে শীতে থমকে গেছে চুয়াডাঙ্গার জীবনযাত্রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। টানা দুই দিন সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।  সাথে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় মৃদ শীতের   তীব্র শীতে রূপ নিয়েছে। এর আগে গত শুক্র ও শনিবার  দুই দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও গত সোমবার ও রোববার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল পুরো জেলা। এর সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস যুক্ত হয়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার লাখো মানুষ।
বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শীতের তীব্রতায় সড়ক ও খোলা জায়গায় মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু ও বয়স্করা।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার আব্দুল মজিদ বলেন, “সকাল থেকেই শীত খুব বেশি। হিমশীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশা শীতকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। পানিতে হাত দেওয়া যায না।  কাজে করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সকালে ঠান্ডা অপেক্ষা করে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করে না।
অটো রিক্সা চালক হারুন আলী বলেন, “শীতের কারণে যাত্রী অনেক কমে গেছে। আগে সকালে ও রাতে ভালো আয় হতো, এখন যাত্রীই নেই। তীব্র শীতে আটো নিয়ে বের হওয়াটাও খুব কষ্টকর।
চা দোকানী ফারুক হোসেন বলেন,   গেল ১৫দিন ধরেই  চুয়াডাঙ্গা তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এর মধ্যে তিন-চার দিন সূর্যের দেখা মিলল বাকি সময় সূর্য দেখা যায়নি। শীতের সাথে মৃদ বাতাস থাকায়  শরীর কাঁপতে থাকে। সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম করেছি, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার কুয়াশা আর বাতাসে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।প্রতিবছরের মতো এবারও চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান,  সোমবার সকাল ৯ টায় জেলার  সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ২  ডিগ্রি  সেলসিয়াস।  এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।  এর আগে রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিন একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কনকনে শীতে থমকে গেছে চুয়াডাঙ্গার জীবনযাত্রা

প্রকাশিত : ০৭:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। টানা দুই দিন সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।  সাথে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় মৃদ শীতের   তীব্র শীতে রূপ নিয়েছে। এর আগে গত শুক্র ও শনিবার  দুই দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও গত সোমবার ও রোববার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল পুরো জেলা। এর সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস যুক্ত হয়ে শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার লাখো মানুষ।
বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শীতের তীব্রতায় সড়ক ও খোলা জায়গায় মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু ও বয়স্করা।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার আব্দুল মজিদ বলেন, “সকাল থেকেই শীত খুব বেশি। হিমশীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশা শীতকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। পানিতে হাত দেওয়া যায না।  কাজে করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সকালে ঠান্ডা অপেক্ষা করে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করে না।
অটো রিক্সা চালক হারুন আলী বলেন, “শীতের কারণে যাত্রী অনেক কমে গেছে। আগে সকালে ও রাতে ভালো আয় হতো, এখন যাত্রীই নেই। তীব্র শীতে আটো নিয়ে বের হওয়াটাও খুব কষ্টকর।
চা দোকানী ফারুক হোসেন বলেন,   গেল ১৫দিন ধরেই  চুয়াডাঙ্গা তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এর মধ্যে তিন-চার দিন সূর্যের দেখা মিলল বাকি সময় সূর্য দেখা যায়নি। শীতের সাথে মৃদ বাতাস থাকায়  শরীর কাঁপতে থাকে। সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম করেছি, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার কুয়াশা আর বাতাসে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।প্রতিবছরের মতো এবারও চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান,  সোমবার সকাল ৯ টায় জেলার  সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ২  ডিগ্রি  সেলসিয়াস।  এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।  এর আগে রোববার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিন একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।