বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ প্রকাশ কিংবা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদালত অবমাননার দায় নিতে হবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এমন কঠোর সতর্কতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে এক বিবৃতিতে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল প্রশ্ন তুলে বলেন, মিথ্যা’, ‘বিভ্রান্তিকর’ বা ‘অসত্য সংবাদের সংজ্ঞা কী? কোন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা নির্ধারিত হবে? এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছ নীতিমালা না থাকলে সতর্কবার্তাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও শঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে।
আমরা মনে করি, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভুল বা তথ্যগত অসংগতি থাকলে তার প্রতিকার আইনি ও নৈতিক কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত। তবে ‘মিথ্যা’ বা ‘বিভ্রান্তিকর’ এই সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যদি সুস্পষ্ট মানদণ্ড না থাকে, তাহলে সেটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ডিআরইউ বিশ্বাস করে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
এমতাবস্থায়, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান ১. ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ’ নির্ধারণের স্পষ্ট সংজ্ঞা ও প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হোক। ২. গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য গাইডলাইন প্রণয়ন করা হোক। ৩. সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেন কোনো ধরনের ভয় বা চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক। ৪. সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনকে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ নিশ্চিত করা হোক।
ডিআরইউ সবসময় দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতার পক্ষে। একই সঙ্গে আমরা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের প্রত্যাশা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন তাদের জারি করা বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 























