ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়ক এখন যেন গর্তের প্রদর্শনী। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খাদ। কোথাও সড়ক দেবে গেছে, কোথাও চাকা আটকে যাচ্ছে গর্তে। ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে ট্রাক, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ ২ বছর আগেই ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল এই সড়ক।

২০২৩ সালের শেষদিকে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়। শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় এটি এখন নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, গর্ত ও পিচ উঠে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, সড়কটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে
বন্দর থানা পুলিশ জানায়, গত এক বছরে এই সড়কে অন্তত বিশটিরও বেশি বড় দুর্ঘটনার তথ্য রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া প্রতিনিয়ত সড়কটিতে চাকা দেবে গিয়ে বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে অহরহ। এতে পুরো রাস্তায় প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয়।

বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দীন বলেন, মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়কের বর্তমান অবস্থা আমাদের জন্যও উদ্বেগের। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও দেবে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। জননিরাপত্তার স্বার্থে আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করছি। সড়কটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। এটি বর্তমানে যান চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী।সড়কটি পুরোপুরি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত চালকদের সতর্কভাবে চলাচলের অনুরোধ জানাচ্ছি।

৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প, সংস্কারের অল্প কিছু দিনেই বিপর্যয়

সওজ সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু চালুর পর গুরুত্ব বাড়ায় সড়কটি প্রশস্ত ও সংস্কার করা হয়। পুরোনো চারটি কালভার্ট ভেঙে নতুন করে নির্মাণ, একটি সেতু ও ওভারলেপসহ মোট ব্যয় হয় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। সড়কের প্রশস্ততা ৫.৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৭.৩ মিটার। তবে সংস্কারের ছয় মাস পর থেকেই সড়কটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়কের সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা হবে। সংস্কারকাজ শেষ হলে সড়কটি নিরাপদ ও যান চলাচলের সম্পূর্ণ উপযোগী হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’

প্রকাশিত : ০৬:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়ক এখন যেন গর্তের প্রদর্শনী। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খাদ। কোথাও সড়ক দেবে গেছে, কোথাও চাকা আটকে যাচ্ছে গর্তে। ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে ট্রাক, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ ২ বছর আগেই ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল এই সড়ক।

২০২৩ সালের শেষদিকে ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়। শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় এটি এখন নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, গর্ত ও পিচ উঠে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, সড়কটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে
বন্দর থানা পুলিশ জানায়, গত এক বছরে এই সড়কে অন্তত বিশটিরও বেশি বড় দুর্ঘটনার তথ্য রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া প্রতিনিয়ত সড়কটিতে চাকা দেবে গিয়ে বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে অহরহ। এতে পুরো রাস্তায় প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয়।

বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দীন বলেন, মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়কের বর্তমান অবস্থা আমাদের জন্যও উদ্বেগের। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও দেবে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। জননিরাপত্তার স্বার্থে আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করছি। সড়কটির অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। এটি বর্তমানে যান চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী।সড়কটি পুরোপুরি সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত চালকদের সতর্কভাবে চলাচলের অনুরোধ জানাচ্ছি।

৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প, সংস্কারের অল্প কিছু দিনেই বিপর্যয়

সওজ সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু চালুর পর গুরুত্ব বাড়ায় সড়কটি প্রশস্ত ও সংস্কার করা হয়। পুরোনো চারটি কালভার্ট ভেঙে নতুন করে নির্মাণ, একটি সেতু ও ওভারলেপসহ মোট ব্যয় হয় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। সড়কের প্রশস্ততা ৫.৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৭.৩ মিটার। তবে সংস্কারের ছয় মাস পর থেকেই সড়কটির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, মদনপুর–মদনগঞ্জ সড়কের সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা হবে। সংস্কারকাজ শেষ হলে সড়কটি নিরাপদ ও যান চলাচলের সম্পূর্ণ উপযোগী হবে।