যশোর প্রতিনিধি: লোহার গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির চোখে তখন সময় থমকে গিয়েছিল। বাইরে সন্ধ্যা নামছে, ভেতরে জমে উঠছে এক জীবনের সবচেয়ে ভারী মুহূর্ত। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর, বন্দিত্বের দেয়ালের মাঝেই জীবনের সবচেয়ে বড় বিদায়টা দিতে হলো ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাট থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের নিথর দেহ আনা হয় কারাগারে। নিয়মের বেড়াজালে থেকেও সাদ্দামকে শেষবারের মতো তাদের দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। স্তব্ধ সেই সময়ে তিনি স্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখেন—যাকে তিনি একদিন ভরসার জায়গা ভেবেছিলেন। আর জীবনে প্রথমবার নিজের সন্তানকে কোলে নেন—কিন্তু সেই কোলে আর কোনো প্রাণ নেই।
কারাগারের ভেতর মুহূর্তেই নেমে আসে নিস্তব্ধতা। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে সবাই। একজন বাবার বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না শুধু চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে—কিন্তু শব্দ হয় না।

এর আগে শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন স্বর্ণালী—এ কথা জানিয়েছেন স্বজনেরা। স্বামীর মুক্তির আশায় দিন গুনতে গুনতে একসময় তিনি চরম হতাশায় ডুবে যান। সেই হতাশাই কেড়ে নেয় দুটি জীবন, ভেঙে দেয় একটি পরিবার।
পরিবারের মানুষজন জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় সাদ্দাম প্রায়ই স্ত্রীকে ছোট ছোট চিরকুট পাঠাতেন—মুক্তির আশ্বাস, নতুন করে একসঙ্গে জীবন গড়ার স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তবতার চাপ আর প্রতীক্ষার বোঝা স্বর্ণালীর মনকে ক্রমেই দুর্বল করে তোলে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, সব নিয়ম মেনেই মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয় এবং শেষ দেখা শেষে সাদ্দামকে আবার তার ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ওয়ার্ডে ফিরে যাওয়া মানুষটি আর আগের নেই—তিনি এখন শুধু স্মৃতির ভার বয়ে বেড়ানো এক বাবা, এক স্বামী।
লোহার শিকের ভেতর থেকে সেদিন যে বিদায় জানানো হলো, তা শুধু দুটি মরদেহকে নয়—একটা স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্নকেও।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















