সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ, শিক্ষার্থীদের জন্য দৈনিক কমপক্ষে ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যক্রম এবং সব শিশুকে সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে।
সম্প্রতি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গৃহীত ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের এ নির্দেশনা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘হেলদি প্রমোটিং স্কুল’ (এইচপিএস) নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তামাকমুক্ত’ ঘোষণা করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রয় ও বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। ‘তামাকমুক্ত বিদ্যালয়’ সাইনবোর্ড প্রদর্শন করতে হবে এবং তামাক কোম্পানির যেকোনো পৃষ্ঠপোষকতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ না থাকলে ইনডোর খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা মেনে পুষ্টিসমৃদ্ধ, কম লবণ, কম চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ‘হেলদি ক্যান্টিন’ স্থাপন করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয়ের বিক্রয় সীমিত করতে হবে।
শিক্ষাক্রমে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষক ও কর্মচারীদের এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি ‘অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে রোগ প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলো থাকবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সব আঞ্চলিক পরিচালক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং সব স্কুল-কলেজের প্রধানকে এসব নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















