ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ৩৬৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৩৬৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। উপজেলায় ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও মাত্র ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে, বাকি ২৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই শহীদ মিনার। এ ছাড়াও ৮৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও শহীদ মিনার রয়েছে ৫৬টিতে, বাকি ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এ ছাড়াও এই উপজেলায় ২৪টি কলেজ থাকলেও ১৬টি কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে, বাকি আটটি কলেজে নেই শহীদ মিনার। উপজেলায় ৬৩টি মাদ্রাসা থাকলেও মাত্র আটটি মাদ্রাসায় রয়েছে শহীদ মিনার, বাকি ৫৫টি মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, আমি উপজেলা সমন্বয় মিটিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আলোচনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে, শহীদ মিনার নির্মাণে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই কারও।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা দরকার, তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই তারা অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে একুশে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।
এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের ৭৪  বছরেও আজও অরক্ষিত বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রথম শহীদ মিনারটি। ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৯৬৯ সালে বাকেরগঞ্জ মাদ্রাসা রোড, কাঠের পোল নামক স্থানে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহান জোমাদ্দার। শহীদ মিনারটি পৌর সভার ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি শহীদ মিনারটি সারাবছরই অযত্নে-অবহেলায় আর নোংরা হয়ে পড়ে থাকে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় শহীদ মিনারটি স্থানীয় কিছু লোকজন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারটি ঘেঁষে কয়েকটি চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। দোকানে আসা প্রতিদিনের কাস্টমাররা শহীদ মিনারের উপর অবস্থান করে। কয়েকজন চায়ের দোকানদারেরা শহীদ মিনারের উপর টুল বসিয়ে দোকানদারি করছেন এ কারণে ভেঙে গেছে শহীদ মিনারের নিচের অংশ। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের দাবি অনতিবিলম্বে এটাকে সংস্কার করা হোক।
স্থানীয়রা জানান, বাকেরগঞ্জ প্রথম শহীদ মিনার আমাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস, লড়াই-সংগ্রাম, গৌরবের প্রামাণ্য দলিল, ঐতিহ্যের অংশ। এই শহরের প্রাচীন কোন নিদর্শনতো আর নেই। লজ্জাকর মুর্খতায় একটা একটা করে সবকিছুকেই আমরা নষ্ট করেছি, হারিয়ে ফেলেছি। এই শেষ নিদর্শনটুকুকে হারাতে দেয়া ঠিক হবে না। আপাত দৃষ্টিতে প্রথম শহীদ মিনারের গুরুত্ব নেই মনে হলেও এর ঐতিহাসিক মূল্য অসীম। আমরা এখন যত দৃষ্টনন্দন স্থপনা, স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনারই বানাই না কেন তার কেবল নান্দনিক মূল্য থাকবে কিন্তু এগুলোর সঙ্গে কোন ইতিহাস নেই, গৌরব নেই, প্ররণা নেই। তাই আমরা মনে করি যে কোন মূল্যে আমাদের প্রথম শহীদ মিনারকে টিকিয়ে রাখতেই হবে। এই শহীদ মিনারকে বাঁচিয়ে রাখাটা বাকেরগঞ্জের বিবেকবান মানুষের দায়, জনপ্রতিনিধি সহ উপজেলা প্রশাসনের দায়।
বাকেরগঞ্জ পৌর প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার না থাকার বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। শহীদ মিনার দেখেও তার উপর যাহারা বসেন তাদের সাধারণ জ্ঞানের অভাব রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে উপজেলার প্রাচীন শহীদ মিনারটি সংস্কার করা হবে।
উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের গুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৮৯ সালে স্থাপতি হলেও অদ্যাবধি শহীদ মিনার মেলেনি এই স্কুলে। ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর মহান স্বাধীনতা দিবস একুশ ফেব্রুয়ারি এলেই কলা গাছ দিয়ে নির্মিত করা হয় একটি শহীদ মিনার সেখানে পুষ্প মাল্য অর্পণ  করে শিশু শিক্ষার্থীরা। ওই ইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা( ভারপ্রাপ্ত) মোসাম্মাৎ ফারজানা ববি জানান, এখানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭৩ জন, শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।  একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও অদ্যবধি নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। প্রতিবছর কলাগাছ দিয়ে তৈরি করে একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবস পালন করা হয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে ঈদের আগে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ৩৬৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

প্রকাশিত : ০৮:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৩৬৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। উপজেলায় ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও মাত্র ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে, বাকি ২৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই শহীদ মিনার। এ ছাড়াও ৮৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও শহীদ মিনার রয়েছে ৫৬টিতে, বাকি ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এ ছাড়াও এই উপজেলায় ২৪টি কলেজ থাকলেও ১৬টি কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে, বাকি আটটি কলেজে নেই শহীদ মিনার। উপজেলায় ৬৩টি মাদ্রাসা থাকলেও মাত্র আটটি মাদ্রাসায় রয়েছে শহীদ মিনার, বাকি ৫৫টি মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, আমি উপজেলা সমন্বয় মিটিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আলোচনা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে, শহীদ মিনার নির্মাণে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই কারও।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা দরকার, তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই তারা অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে একুশে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে।
এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের ৭৪  বছরেও আজও অরক্ষিত বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রথম শহীদ মিনারটি। ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৯৬৯ সালে বাকেরগঞ্জ মাদ্রাসা রোড, কাঠের পোল নামক স্থানে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহান জোমাদ্দার। শহীদ মিনারটি পৌর সভার ৪ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি শহীদ মিনারটি সারাবছরই অযত্নে-অবহেলায় আর নোংরা হয়ে পড়ে থাকে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় শহীদ মিনারটি স্থানীয় কিছু লোকজন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারটি ঘেঁষে কয়েকটি চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। দোকানে আসা প্রতিদিনের কাস্টমাররা শহীদ মিনারের উপর অবস্থান করে। কয়েকজন চায়ের দোকানদারেরা শহীদ মিনারের উপর টুল বসিয়ে দোকানদারি করছেন এ কারণে ভেঙে গেছে শহীদ মিনারের নিচের অংশ। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের দাবি অনতিবিলম্বে এটাকে সংস্কার করা হোক।
স্থানীয়রা জানান, বাকেরগঞ্জ প্রথম শহীদ মিনার আমাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস, লড়াই-সংগ্রাম, গৌরবের প্রামাণ্য দলিল, ঐতিহ্যের অংশ। এই শহরের প্রাচীন কোন নিদর্শনতো আর নেই। লজ্জাকর মুর্খতায় একটা একটা করে সবকিছুকেই আমরা নষ্ট করেছি, হারিয়ে ফেলেছি। এই শেষ নিদর্শনটুকুকে হারাতে দেয়া ঠিক হবে না। আপাত দৃষ্টিতে প্রথম শহীদ মিনারের গুরুত্ব নেই মনে হলেও এর ঐতিহাসিক মূল্য অসীম। আমরা এখন যত দৃষ্টনন্দন স্থপনা, স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনারই বানাই না কেন তার কেবল নান্দনিক মূল্য থাকবে কিন্তু এগুলোর সঙ্গে কোন ইতিহাস নেই, গৌরব নেই, প্ররণা নেই। তাই আমরা মনে করি যে কোন মূল্যে আমাদের প্রথম শহীদ মিনারকে টিকিয়ে রাখতেই হবে। এই শহীদ মিনারকে বাঁচিয়ে রাখাটা বাকেরগঞ্জের বিবেকবান মানুষের দায়, জনপ্রতিনিধি সহ উপজেলা প্রশাসনের দায়।
বাকেরগঞ্জ পৌর প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার না থাকার বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। শহীদ মিনার দেখেও তার উপর যাহারা বসেন তাদের সাধারণ জ্ঞানের অভাব রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে উপজেলার প্রাচীন শহীদ মিনারটি সংস্কার করা হবে।
উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের গুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৮৯ সালে স্থাপতি হলেও অদ্যাবধি শহীদ মিনার মেলেনি এই স্কুলে। ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর মহান স্বাধীনতা দিবস একুশ ফেব্রুয়ারি এলেই কলা গাছ দিয়ে নির্মিত করা হয় একটি শহীদ মিনার সেখানে পুষ্প মাল্য অর্পণ  করে শিশু শিক্ষার্থীরা। ওই ইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা( ভারপ্রাপ্ত) মোসাম্মাৎ ফারজানা ববি জানান, এখানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭৩ জন, শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।  একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও অদ্যবধি নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। প্রতিবছর কলাগাছ দিয়ে তৈরি করে একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবস পালন করা হয়।