দুমকি প্রতিনিধিঃ দিগন্ত জোড়া সবুজ মাঠে তরমুজ গাছ ও ফলে ভরে উঠেছে প্রতিটি ক্ষেত। কৃষকরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচর্যায় সময় পার করছেন। আগাছা দমন, পানি সেচ, সার ওষুধ প্রয়োগ এবং রাত জেগে তরমুজ ক্ষেত পাহাড়া দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭০হেক্টের। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষাবাদ করা হয়েছে ২৬০ হেক্টর।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন চর এলাকায় তরমুজের চাষ করা হয়েছে। মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া, চরগরব্দী, পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী, হাজীর হাট ও লেবুখালী ইউনিয়নের পায়রা সেতুর উত্তর পাড়ের চর ও আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় তরমুজ চাষ করেছেন কৃষকরা।
কোন কোন ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে।
মৌসুমের শুরুতে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে বলে চাষিদের চোখে মুখে আনন্দ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বেশ কিছু ক্ষেতের ফলন রোজার মধ্যেই বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেতেই ছোট বড় হরেক রকম তরমুজে ভরে গেছে। দক্ষিণ মুরাদিয়া চরের তরমুজ চাষি মতিউর রহমান বলেন, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়ন থেকে এখানে এসে প্রতি কানি জমি ৭৫ হাজার টাকায় নগদ টাকা দরে ১বছরের চুক্তিতে নিয়েছি। জমি চাষাবাদ, বীজ ক্রয়, সার, ঔষধ ও শ্রমিক সব মিলিয়ে এক কানি জমিতে খরচ হয়েছে ৩লক্ষ টাকা। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন
হয়েছে। প্রতি কানিতে ৬থেকে ৭ এমনকি ৯ লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীতে আরো বেশি জমিতে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
তরমুজ চাষি জাহাঙ্গীর রাঢ়ি বলেন, ১৬ কুড়া জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। গ্রেট-১ ও বিগ প্লাস জাতের বীজ বপন করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তরমুজ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি।
অপর এক চাষী জহির হাওলাদারের ফার্ম পরিচালনাকারী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে একটি ক্ষেত থেকে প্রায় ২ হাজার পিস তরমুজ পটুয়াখালী আড়ৎয়ে বিক্রি করেছি। মৌসুমের শুরুতে তরমুজ বিক্রি করতে পেরে খুব খুশী। তাছাড়া বর্তমানে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
পাঙ্গাশিয়ার আলগী এলাকার তরমুজ চাষী জুয়েল সরদার জানান, দুমকি এলাকায় যাতায়াত ভালো। তরমুজ পরিবহনে সড়ক ও নৌপথ দুটিই সুবিধা জনক হওয়ায় আমরা অন্য উপজেলা থেকে এখানে এসে চুক্তিতে জমি নিয়ে চাষাবাদ করছি। এবছর তরমুজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করি সকল খরচা বাদে বেশ লাভবান হতে পারবো।
দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭০ হেক্টর কিন্তু সরেজমিনে চাষাবাদ হয়েছে ২৬০ হেক্টর। কৃষি দফতর থেকে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি এবং কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















