ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দোয়ারাবাজারে সেচ ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির বাস্তবায়নে ৭০ লাখ টাকার সেচ ড্রেন নির্মাণ কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা ও হকনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক শতাধিক কৃষক পরিবারের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু শুরুতেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আপত্তির মুখে গত ৩/৪দিন ধরে ড্রেনের নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরসিসি ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই ড্রেনজুড়ে বড় বড় ফাটলসহ অনেক স্থানে ঢালাই ফেটে রড বের হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ের সময় নিয়ম অনুযায়ী ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করায় কংক্রিটের ভেতরে ফাঁপা রয়ে গেছে এবং অত্যন্ত নিম্নমানের বিট বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেনের ওয়াটার লেভেল এবং বেইস ঢালাইয়ে চরম কারিগরি ত্রুটি রয়েছে।
হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্য শাহজাহান মোল্লা বলেন, শুরু থেকেই ঢালাইয়ের সময় ঠিকমতো পানি দেওয়া হয়নি। রড ও সিমেন্টের ব্যবহারও ছিল অপর্যাপ্ত। ওয়াটার লেভেলও ঠিক রাখা হয়নি। সমিতির সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, যেখানে ২.৫ ইঞ্চি সাইড কভার থাকার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে আছে। কাভারিং ঠিকমতো হয়নি।
জুমগাঁও গ্রামের ইছরাক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ম্যানুয়াল অনুযায়ী কোনো কাজই করা হয়নি। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম রবিন বলেন, বালু, পাথর, সিমেন্ট, রড—কোনোটাই পরিমাণ মতো দেওয়া হয়নি। কাজের দুই দিনের মাথায় বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম হলেও দেখার কেউ নেই। এগুলো ভেঙে আবার নতুন করে কাজ শুরু করার দাবি জানাই।
হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার ভূঁইয়া অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলী সরজমিন পরিদর্শন না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষক ও সাধারণ জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে একটি টেকসই ড্রেন নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ঠিকাদার চৌধুরী আহসান পারভেজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কাজে কোনো অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়নি। কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মিস্ত্রি চলে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। শিঘ্রই আবার কাজ শুরু হবে।
একই ভাষ্য এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, যারা অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন তা মিথ্যা। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। যোগাযোগ করে অভিযোগকারী কাউকে পাইনি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম দূর্নীতি হয়নি। ম্যানুয়াল অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছি। আমি নিজেও সরেজমিনে তদন্ত করতে যাবো। কোথাও অনিয়ম পেলে তা রিপেয়ারিং করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

দোয়ারাবাজারে সেচ ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি

প্রকাশিত : ১০:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির বাস্তবায়নে ৭০ লাখ টাকার সেচ ড্রেন নির্মাণ কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা ও হকনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক শতাধিক কৃষক পরিবারের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু শুরুতেই কাজের মান নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আপত্তির মুখে গত ৩/৪দিন ধরে ড্রেনের নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরসিসি ঢালাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই ড্রেনজুড়ে বড় বড় ফাটলসহ অনেক স্থানে ঢালাই ফেটে রড বের হয়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢালাইয়ের সময় নিয়ম অনুযায়ী ভাইব্রেটর মেশিন ব্যবহার না করায় কংক্রিটের ভেতরে ফাঁপা রয়ে গেছে এবং অত্যন্ত নিম্নমানের বিট বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেনের ওয়াটার লেভেল এবং বেইস ঢালাইয়ে চরম কারিগরি ত্রুটি রয়েছে।
হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্য শাহজাহান মোল্লা বলেন, শুরু থেকেই ঢালাইয়ের সময় ঠিকমতো পানি দেওয়া হয়নি। রড ও সিমেন্টের ব্যবহারও ছিল অপর্যাপ্ত। ওয়াটার লেভেলও ঠিক রাখা হয়নি। সমিতির সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, যেখানে ২.৫ ইঞ্চি সাইড কভার থাকার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় রড বের হয়ে আছে। কাভারিং ঠিকমতো হয়নি।
জুমগাঁও গ্রামের ইছরাক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ম্যানুয়াল অনুযায়ী কোনো কাজই করা হয়নি। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম রবিন বলেন, বালু, পাথর, সিমেন্ট, রড—কোনোটাই পরিমাণ মতো দেওয়া হয়নি। কাজের দুই দিনের মাথায় বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম হলেও দেখার কেউ নেই। এগুলো ভেঙে আবার নতুন করে কাজ শুরু করার দাবি জানাই।
হকনগর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার ভূঁইয়া অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ত্রুটিপূর্ণ কাজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলী সরজমিন পরিদর্শন না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষক ও সাধারণ জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে একটি টেকসই ড্রেন নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
ঠিকাদার চৌধুরী আহসান পারভেজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কাজে কোনো অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়নি। কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মিস্ত্রি চলে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। শিঘ্রই আবার কাজ শুরু হবে।
একই ভাষ্য এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, যারা অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন তা মিথ্যা। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। যোগাযোগ করে অভিযোগকারী কাউকে পাইনি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম দূর্নীতি হয়নি। ম্যানুয়াল অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছি। আমি নিজেও সরেজমিনে তদন্ত করতে যাবো। কোথাও অনিয়ম পেলে তা রিপেয়ারিং করা হবে।