ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্বনেতারা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্বনেতারা। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বিদেশিদের শ্রদ্ধার জন্য রাজধানী তেহরানে তার মরদেহ রাখা হয়। এরসঙ্গে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মরদেহও আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আলি খামেনি। এরপর যুদ্ধ চলায় এতদিন তাকে দাফন করা হয়নি। এখন যুদ্ধ থামায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনিকে শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে।

সাত দিনব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা

খামেনিকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ৩ জুলাই তেহরানে শুরু হয়েছে। এটি ইরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে।

   জুলাই

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সর্বজনীন শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে। সর্বসাধারণকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মরদেহসহ খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। বিশাল জনসমাগমের জন্য নির্মিত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ইরানের অন্যতম বৃহত্তম প্রার্থনাস্থল। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

   জুলাই

৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের উদ্দেশে বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

কোম ইরানের শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর। এখানে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। খামেনিসহ হাজার হাজার আলেম এ শহরে অধ্যয়ন ও শিক্ষাদান করেছেন।

 জুলাই

ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৮ জুলাই নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

নজফের ইমাম আলীর মাজার শিয়াদের অন্যতম পবিত্র স্থান। প্রতি বছর সেখানে লাখো তীর্থযাত্রী আসেন। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হজরত আলী ইবনে আবি তালিবের সমাধি রয়েছে।

কারবালায় অবস্থিত ইমাম হুসাইন ও তার সৎভাই আব্বাসের মাজার শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন এবং আব্বাস শহীদ হন। এ ঘটনাটি শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।

 জুলাই

এরপর মরদেহটি চূড়ান্ত দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদ ইরানের পবিত্রতম শহর। ইমাম রেজা শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে অষ্টম ইমাম হিসেবে পরিচিত।

শহরটি আলি খামেনির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের একটি বড় অংশ সেখানে কাটান। কোমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগে তিনি মাশহাদের ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে অধ্যয়ন করেছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্বনেতারা

খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্বনেতারা

প্রকাশিত : ১২:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিশ্বনেতারা। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বিদেশিদের শ্রদ্ধার জন্য রাজধানী তেহরানে তার মরদেহ রাখা হয়। এরসঙ্গে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মরদেহও আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আলি খামেনি। এরপর যুদ্ধ চলায় এতদিন তাকে দাফন করা হয়নি। এখন যুদ্ধ থামায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনিকে শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে।

সাত দিনব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা

খামেনিকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ৩ জুলাই তেহরানে শুরু হয়েছে। এটি ইরান ও ইরাকজুড়ে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হবে।

   জুলাই

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে সর্বজনীন শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে। সর্বসাধারণকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মরদেহসহ খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। বিশাল জনসমাগমের জন্য নির্মিত গ্র্যান্ড মোসাল্লা ইরানের অন্যতম বৃহত্তম প্রার্থনাস্থল। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

   জুলাই

৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের উদ্দেশে বিশাল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

কোম ইরানের শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর। এখানে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। খামেনিসহ হাজার হাজার আলেম এ শহরে অধ্যয়ন ও শিক্ষাদান করেছেন।

 জুলাই

ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৮ জুলাই নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে বড় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

নজফের ইমাম আলীর মাজার শিয়াদের অন্যতম পবিত্র স্থান। প্রতি বছর সেখানে লাখো তীর্থযাত্রী আসেন। এখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা হজরত আলী ইবনে আবি তালিবের সমাধি রয়েছে।

কারবালায় অবস্থিত ইমাম হুসাইন ও তার সৎভাই আব্বাসের মাজার শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন এবং আব্বাস শহীদ হন। এ ঘটনাটি শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।

 জুলাই

এরপর মরদেহটি চূড়ান্ত দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদ ইরানের পবিত্রতম শহর। ইমাম রেজা শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে অষ্টম ইমাম হিসেবে পরিচিত।

শহরটি আলি খামেনির জন্য ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের একটি বড় অংশ সেখানে কাটান। কোমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগে তিনি মাশহাদের ধর্মীয় মাদ্রাসাগুলোতে অধ্যয়ন করেছিলেন।