ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

দুমকিতে বারি-৬ জাতের লাউ চাষে কৃষক বাবুলের বাজিমাত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:০৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে
দুমকি প্রতিনিধি: সমস্ত খামার জুড়ে সবুজ লাউয়ের ডগায় ছেয়ে গেছে। দক্ষিনা বাতাসে দুলছে সারি সারি ছোট বড় মাঝারি আকারের সারি সারি লাউ। লাউয়ের ভারে ঝাঁকা ছিঁড়ে পড়ছে কোন কোন জায়গা দিয়ে। খামারের পাশ দিয়ে যাতায়াত কারী পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করে  এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক বাবুল হাওলাদার।  উচ্চ ফলনশীল বারি-৬ জাতের বারোমাসি লাউ চাষ করে তিনি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
কৃষক বাবুল হাওলাদার বলেন,  কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত ‘বারি-৬’ জাতের লাউ চাষ করছি।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট জামলা,দুমকি, পটুয়াখালী অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে
অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিকে  ‘বারি-৬’ জাতের লাউয়ের চারা রোপণ করি। শুরু থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ ও  সেচ দেই। ক্ষেতে প্রচুর ফুল ও ফল ধরেছে। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার  শাক ও লাউ বিক্রি করেছি। বর্তমানে লাউয়ের দাম কমে যাওয়ায় কম লাভ হবে। তবে যে হারে ফুল ও লাউয়ের ফলন ধরেছে তাতে আরো ৫০হাজার টাকার বেশি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ কৃষি কাজ করি। এবারের মত লাউয়ের ফলন আর কখনো হয়নি।
স্থানীয় কৃষক আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা প্রায়ই বাবুলের লাউক্ষেত দেখতে যাই। ফলন খুব ভালো হয়েছে। আগামী বছর আমিও এই জাতের লাউ চাষ করব।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দুমকি উপজেলার বৈজ্ঞানিক সহকারী দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র নতুন উদ্ভাবিত “বারি-৬” জাতের বীজ
পরীক্ষামূলকভাবে একটি প্রদর্শনী প্লট  বাবুল হাওলাদারের মাধ্যমে চাষ করিয়েছি। খুব ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়াও “বারি-৬ লাউ খেতে সুস্বাদু এবং বারোমাস ফলন দেয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে কৃষকরা ভালো লাভবান হতে পারেন।”
এব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট, পটুয়াখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এইচ, এম খায়রুল বাসার সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে বলেন, “বারি-৬ জাতের লাউ বারোমাসি ও উচ্চ ফলনশীল। কৃষকরা এ জাত চাষ করে অধিক ফলন ও ভালো বাজারমূল্য পাচ্ছেন। এতে এ অঞ্চলে সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
কৃষিতে আগ্রহী এলাকার অন্যান্য  কৃষকদের জন্য বাবুল হাওলাদারের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। খামারটি দেখার জন্য ও লাউ ক্রয়ের জন্য প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হচ্ছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বাবুগঞ্জের আখের গুড়ের চাহিদা বরিশালজুড়ে

দুমকিতে বারি-৬ জাতের লাউ চাষে কৃষক বাবুলের বাজিমাত

প্রকাশিত : ০৯:০৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
দুমকি প্রতিনিধি: সমস্ত খামার জুড়ে সবুজ লাউয়ের ডগায় ছেয়ে গেছে। দক্ষিনা বাতাসে দুলছে সারি সারি ছোট বড় মাঝারি আকারের সারি সারি লাউ। লাউয়ের ভারে ঝাঁকা ছিঁড়ে পড়ছে কোন কোন জায়গা দিয়ে। খামারের পাশ দিয়ে যাতায়াত কারী পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করে  এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক বাবুল হাওলাদার।  উচ্চ ফলনশীল বারি-৬ জাতের বারোমাসি লাউ চাষ করে তিনি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
কৃষক বাবুল হাওলাদার বলেন,  কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত ‘বারি-৬’ জাতের লাউ চাষ করছি।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট জামলা,দুমকি, পটুয়াখালী অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে
অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিকে  ‘বারি-৬’ জাতের লাউয়ের চারা রোপণ করি। শুরু থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ ও  সেচ দেই। ক্ষেতে প্রচুর ফুল ও ফল ধরেছে। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার  শাক ও লাউ বিক্রি করেছি। বর্তমানে লাউয়ের দাম কমে যাওয়ায় কম লাভ হবে। তবে যে হারে ফুল ও লাউয়ের ফলন ধরেছে তাতে আরো ৫০হাজার টাকার বেশি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ কৃষি কাজ করি। এবারের মত লাউয়ের ফলন আর কখনো হয়নি।
স্থানীয় কৃষক আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা প্রায়ই বাবুলের লাউক্ষেত দেখতে যাই। ফলন খুব ভালো হয়েছে। আগামী বছর আমিও এই জাতের লাউ চাষ করব।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দুমকি উপজেলার বৈজ্ঞানিক সহকারী দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র নতুন উদ্ভাবিত “বারি-৬” জাতের বীজ
পরীক্ষামূলকভাবে একটি প্রদর্শনী প্লট  বাবুল হাওলাদারের মাধ্যমে চাষ করিয়েছি। খুব ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়াও “বারি-৬ লাউ খেতে সুস্বাদু এবং বারোমাস ফলন দেয়। সঠিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে কৃষকরা ভালো লাভবান হতে পারেন।”
এব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট, পটুয়াখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এইচ, এম খায়রুল বাসার সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে বলেন, “বারি-৬ জাতের লাউ বারোমাসি ও উচ্চ ফলনশীল। কৃষকরা এ জাত চাষ করে অধিক ফলন ও ভালো বাজারমূল্য পাচ্ছেন। এতে এ অঞ্চলে সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
কৃষিতে আগ্রহী এলাকার অন্যান্য  কৃষকদের জন্য বাবুল হাওলাদারের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। খামারটি দেখার জন্য ও লাউ ক্রয়ের জন্য প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হচ্ছেন।