ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

নতুন গভর্নর :পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলবে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংকটে পড়া পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

গভর্নরের কার্যালয়ে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, একীভূতকরণ-পরবর্তী কার্যক্রম এবং গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে গভর্নর কর্মকর্তাদের জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল থাকবে এবং পাঁচ ব্যাংকের আওতাধীন সচল কারখানাগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কারখানার কোনো বিদেশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। গভর্নরের এই অনড় অবস্থানের ফলে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধোঁয়াশা দূর হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এর আগে গত রোববার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেও একই বার্তা দিয়েছিলেন গভর্নর। তিনি স্পষ্ট করেন যে ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার অব্যাহত থাকবে এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে তিনি নতিস্বীকার করবেন না। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন এই ব্যাংকটি ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের তহবিল থেকে আসবে। এ ছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর সুরক্ষায় আমানত বীমা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন গভর্নর :পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলবে

প্রকাশিত : ১২:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংকটে পড়া পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

গভর্নরের কার্যালয়ে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, একীভূতকরণ-পরবর্তী কার্যক্রম এবং গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে গভর্নর কর্মকর্তাদের জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বহাল থাকবে এবং পাঁচ ব্যাংকের আওতাধীন সচল কারখানাগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কারখানার কোনো বিদেশি বকেয়া থাকলে তা পরিশোধের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। গভর্নরের এই অনড় অবস্থানের ফলে পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধোঁয়াশা দূর হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এর আগে গত রোববার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেও একই বার্তা দিয়েছিলেন গভর্নর। তিনি স্পষ্ট করেন যে ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার অব্যাহত থাকবে এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে তিনি নতিস্বীকার করবেন না। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন এই ব্যাংকটি ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের তহবিল থেকে আসবে। এ ছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর সুরক্ষায় আমানত বীমা তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।