ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

সচ্ছ প্রশাসন ও নিরাপদ সমাজের দাবিতে ঈশ্বরগঞ্জে তরুণদের জোরালো আওয়াজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি: মাদক-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার তরুণ সমাজ, কঠোর অবস্থানে এমপি মাজেদ। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সচ্ছ প্রশাসন ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের দাবিতে এক ব্যতিক্রমধর্মী টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে ‘ঈশ্বরগঞ্জ সরকারিকৃত ডিগ্রি কলেজ’ মাঠে এ উন্মুক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।
ঈদ-পরবর্তী এ আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও সবচেয়ে চোখে পড়ে জেন-জি প্রজন্মের সরব উপস্থিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও চুয়েটসহ বিভিন্ন পাবলিক ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। বক্তব্য রাখেন চুয়েটের উপাচার্য মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের পিতা আব্দুল মতিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। তরুণরা নির্ভয়ে মাদক বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। জবাবে সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জানান, মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ সময় সরিষা ইউনিয়নের শিশু মরিয়ম হত্যার ঘটনাটি সভায় তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। বক্তারা বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
তরুণদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কিছু অসাধু ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। জমি দখল, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার।
এ প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপরাধে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। মাদক ব্যবসায়ীদের ছবি ও নাম সাইনবোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সমাজ তাদের চিনতে পারে।”
একই সুরে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও বলেন, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনো অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না। সচেতন মহল মনে করছে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, তরুণদের জন্য ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারলে অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব।
সবশেষে তরুণ সমাজের একটাই প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক ঈশ্বরগঞ্জ গড়ে তোলা, যেখানে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।

সচ্ছ প্রশাসন ও নিরাপদ সমাজের দাবিতে ঈশ্বরগঞ্জে তরুণদের জোরালো আওয়াজ

প্রকাশিত : ০৯:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি: মাদক-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার তরুণ সমাজ, কঠোর অবস্থানে এমপি মাজেদ। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সচ্ছ প্রশাসন ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের দাবিতে এক ব্যতিক্রমধর্মী টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে ‘ঈশ্বরগঞ্জ সরকারিকৃত ডিগ্রি কলেজ’ মাঠে এ উন্মুক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।
ঈদ-পরবর্তী এ আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও সবচেয়ে চোখে পড়ে জেন-জি প্রজন্মের সরব উপস্থিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও চুয়েটসহ বিভিন্ন পাবলিক ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। বক্তব্য রাখেন চুয়েটের উপাচার্য মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের পিতা আব্দুল মতিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। তরুণরা নির্ভয়ে মাদক বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। জবাবে সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সমস্যার সমাধানে আশ্বাস দেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জানান, মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ সময় সরিষা ইউনিয়নের শিশু মরিয়ম হত্যার ঘটনাটি সভায় তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। বক্তারা বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
তরুণদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কিছু অসাধু ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। জমি দখল, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার।
এ প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপরাধে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। মাদক ব্যবসায়ীদের ছবি ও নাম সাইনবোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সমাজ তাদের চিনতে পারে।”
একই সুরে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও বলেন, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনো অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না। সচেতন মহল মনে করছে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, তরুণদের জন্য ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারলে অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব।
সবশেষে তরুণ সমাজের একটাই প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক ঈশ্বরগঞ্জ গড়ে তোলা, যেখানে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।