সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং নারী ও শিশুর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ কুর্শি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চুরির সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগ করে আসছিলেন এলাকাবাসী। তাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত একাধিকবার সতর্ক করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়।
সম্প্রতি দোলারবাজার ইউনিয়নের উত্তর কুর্শি গ্রামে মো. দুলন মিয়ার বাড়িতে গরুসহ এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এর জের ধরে বুধবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আব্দুল হকের ছেলে তারেক মিয়া ও আব্দুল খালিকের ছেলে আলী হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় বসতঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারেক মিয়ার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়ি রক্ষার চেষ্টা করছেন। উত্তেজিত জনতা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে তিনি ও তার শিশু সন্তান আহত হন। এছাড়া বাড়ির বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও কিছু সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, চুরির মতো অপরাধের বিচার অবশ্যই আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু বাড়িঘরে হামলা ও পরিবারের ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সভ্য সমাজের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে দোলারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















