বরিশাল প্রতিনিধি: বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দিয়েতলী গ্রামে স্বাধীনতার এত বছর পার হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের দিয়াতলী গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে। দিয়াতলী গ্রামের মেন সড়ক হিসেবে পরিচিত আলকাছের বাড়ি থেকে মালেক সভাপতির বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ এই রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে জনদুর্ভোগের এক চরম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন চিত্র ও বর্তমান অবস্থা:
সরেজমিনে দেখা যায়, দিয়াতলী গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি এখন ডোবায় পরিণত হয়েছে। এই বেহাল দশার কারণে রিকশা, ভ্যান বা ছোট কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই রাস্তাটি এখন এক আতঙ্কের নাম।

জনদুর্ভোগের ভয়াবহতা:
১. চিকিৎসা সংকট: গ্রামের কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো উপায় নেই। রাস্তার দুরবস্থার কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি কোনো যানবাহন এই এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না।
২. শিক্ষার্থীদের কষ্ট: গ্রামের কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সময় প্রায়ই কর্দমাক্ত রাস্তায় আছাড় খেয়ে বই-খাতা নষ্ট করছে। ফলে অনেক অভিভাবক বর্ষার সময় শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান।
৩. কৃষি ও ব্যবসা: দিয়াতলী গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না, যার ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি:
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কেউ এই রাস্তার খোঁজ নেন না। আলকাছের বাড়ি থেকে মালেক সভাপতির বাড়ি পর্যন্ত এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ যাতায়াত করে। এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি— “ত্রাণ নয়, আমরা এই অবহেলিত রাস্তার স্থায়ী সংস্কার ও পাকাকরণ চাই।”
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ:
দিয়াতলী গ্রামের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বিনীত আবেদন— দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সড়কটি পরিদর্শন করে জনস্বার্থে এটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় এই এলাকার মানুষের জনদুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















