ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ইতিহাসের সাক্ষী: ধ্বংসের মুখে কলসকাঠীর ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:২৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ কলসকাঠী। পনেরো শতকের শেষদিকে প্রতিষ্ঠিত এই কলসকাঠী বন্দর ও জমিদার বাড়ি আজ কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ আর অযত্নের কারণে এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এখন ধ্বংসের মুখে।
​জমিদার বংশের গোড়াপত্তন ​কলসকাঠী জমিদার বাড়ির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে জানকী বল্লভ রায়ের নাম। ইতিহাসবিদদের মতে, জানকী বল্লভ রায় ছিলেন বিক্রমপুরের বিখ্যাত জমিদার বংশের উত্তরসূরি। তিনি তার পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ করে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং জমিদারি প্রথা চালু করেন। এরপর ধীরে ধীরে কলসকাঠী একটি সমৃদ্ধশালী জনপদে পরিণত হয়।


​স্থাপত্য শৈলী ও বিশেষত্ব​কলসকাঠীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৩টি জমিদার পরিবার বাস করত। তাদের নির্মিত প্রতিটি ভবনই ছিল কারুকার্যখচিত এবং শৈল্পিক। এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
​কারুকার্যময় মঠ ও মন্দির: বাড়ির আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মঠগুলো বাংলার প্রাচীন নির্মাণশৈলীর অনন্য উদাহরণ।
​অন্ধকার কুঠুরি ও সুড়ঙ্গ: জনশ্রুতি আছে, নিরাপত্তার জন্য বাড়ির ভেতরে সুড়ঙ্গ পথ ও গুপ্ত কক্ষ ছিল।
​শৈল্পিক কারুকাজ: ভবনের দেয়ালে লতাপাতা এবং দেব-দেবীর নিপুণ খোদাই করা নকশা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
​বর্তমান অবস্থা ও শঙ্কা ​এক সময় যে বাড়িগুলো ছিল ঐশ্বর্য আর জৌলুসের প্রতীক, আজ সেগুলোর পলেস্তারা খসে পড়ছে। অধিকাংশ ভবনই লতাগুল্মে ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগের অভাবে এই ঐতিহাসিক স্থানটি বিলুপ্ত হতে চলেছে। অনেক মূল্যবান শিলালিপি ও স্থাপত্যের অংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে।
​কলসকাঠীর জমিদার বাড়ি কেবল একটি ভবন নয়, এটি আমাদের অঞ্চলের কয়েকশ বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। এই পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এখনই প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের জোরালো হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ইতিহাসের সাক্ষী: ধ্বংসের মুখে কলসকাঠীর ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি

প্রকাশিত : ১১:২৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ কলসকাঠী। পনেরো শতকের শেষদিকে প্রতিষ্ঠিত এই কলসকাঠী বন্দর ও জমিদার বাড়ি আজ কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ আর অযত্নের কারণে এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এখন ধ্বংসের মুখে।
​জমিদার বংশের গোড়াপত্তন ​কলসকাঠী জমিদার বাড়ির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে জানকী বল্লভ রায়ের নাম। ইতিহাসবিদদের মতে, জানকী বল্লভ রায় ছিলেন বিক্রমপুরের বিখ্যাত জমিদার বংশের উত্তরসূরি। তিনি তার পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ করে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং জমিদারি প্রথা চালু করেন। এরপর ধীরে ধীরে কলসকাঠী একটি সমৃদ্ধশালী জনপদে পরিণত হয়।


​স্থাপত্য শৈলী ও বিশেষত্ব​কলসকাঠীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৩টি জমিদার পরিবার বাস করত। তাদের নির্মিত প্রতিটি ভবনই ছিল কারুকার্যখচিত এবং শৈল্পিক। এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
​কারুকার্যময় মঠ ও মন্দির: বাড়ির আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মঠগুলো বাংলার প্রাচীন নির্মাণশৈলীর অনন্য উদাহরণ।
​অন্ধকার কুঠুরি ও সুড়ঙ্গ: জনশ্রুতি আছে, নিরাপত্তার জন্য বাড়ির ভেতরে সুড়ঙ্গ পথ ও গুপ্ত কক্ষ ছিল।
​শৈল্পিক কারুকাজ: ভবনের দেয়ালে লতাপাতা এবং দেব-দেবীর নিপুণ খোদাই করা নকশা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
​বর্তমান অবস্থা ও শঙ্কা ​এক সময় যে বাড়িগুলো ছিল ঐশ্বর্য আর জৌলুসের প্রতীক, আজ সেগুলোর পলেস্তারা খসে পড়ছে। অধিকাংশ ভবনই লতাগুল্মে ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগের অভাবে এই ঐতিহাসিক স্থানটি বিলুপ্ত হতে চলেছে। অনেক মূল্যবান শিলালিপি ও স্থাপত্যের অংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে।
​কলসকাঠীর জমিদার বাড়ি কেবল একটি ভবন নয়, এটি আমাদের অঞ্চলের কয়েকশ বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। এই পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এখনই প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের জোরালো হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।