চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গত তিন দিনের ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফলে তীব্র গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। যা দেশের সর্বোচ্চ। এক দিনের ব্যবধানে শুক্রবার তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি। বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ ৩১ মার্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই।
সরেজমিনে শহর ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সূর্যের তাপ বাড়তে শুরু করছে, আর দুপুরের পর তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বাইরে বের হলেও অনেকেই ছাতা ব্যবহার করছেন। তীব্র গরমে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়েছে, আর যানবাহন চলাচলেও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশা ও ভ্যানচালকেরা পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছেন না, অন্যদিকে মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেককে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।
শহরের তরমুজ বিক্রেতা আব্দুল হাকিম বলেন, “চুয়াডাঙ্গায় শীতে যেমন ঠান্ডা বেশি পড়ে, তেমনি গরমেও তাপমাত্রা বেশি থাকে। এখনো গরম পুরোপুরি শুরু হয়নি, কিন্তু রোদের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।”
মোটরসাইকেলচালক মহিবুল আলম বলেন, “রোদের তাপে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছি না। বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকাও কষ্টকর হয়ে ওঠে।”
এদিকে তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে মানুষ ভিড় করছেন শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা শরবত ও ঠান্ডা পানির দোকানে। ১০ থেকে ২০ টাকা গ্লাস দরে লেবুর শরবত ও ঠান্ডা পানি পান করে সাময়িক স্বস্তি খুঁজছেন পথচারীরা। এক শরবত বিক্রেতা জানান, “আগে দিনে ২০-৩০ গ্লাস বিক্রি হলেও এখন ১০০ গ্লাসের বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে মাঠে নেমেছেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আওসাফ আবির। বৃহস্পতিবার শহরের চৌরাস্তায় পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে নিজ হাতে ঠান্ডা স্যালাইন বিতরণ করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, “তীব্র গরমে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি না হলে এই তাপপ্রবাহ থেকে দ্রুত মুক্তির সম্ভাবনা কম। ফলে আগামী কয়েকদিন চুয়াডাঙ্গার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















