ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

প্রচন্ড গরমে স্বস্তি দিচ্ছে তালের শাঁস, দুমকিতে বেড়েছে বিক্রি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৫:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল তালের শাঁস বিক্রি। রেদের তীব্র তাপে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে তাল শাঁসের কদর বেড়েছে। সহজলভ্য ও মুখরোচক হওয়ায় এসময় নানা বয়সের মানুষের পছন্দের তাল শাঁসে। অন্যদিকে দিন দিন বাড়ছে বজ্রপাত ও কমছে তালগাছ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দুমকি বাজার, নতুন বাজার, থানা ব্রীজ, লেবুখালী পাগলা গোল চত্বর এলাকা, বোর্ড অফিস বাজার, তালুকদার বাজার, পাংগাসিয়া মাদ্রাসা ব্রীজ, আঙ্গারিয়া বন্দর, চরগরবদি ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন মোড়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ও শীতকালের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করছে তালের শাঁস। অন্যদিকে উৎসুক নানা শ্রেণীপেশার মানুষ ভীড় জমিয়ে আগ্রহের সঙ্গে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে অথবা খাচ্ছে। উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের মৌসুমী তাল ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, এই মৌসুমে বাড়তি আয়ের জন্য বিভিন্ন এলাকায় থেকে ঘুরে গাছ মালিকদের কাছ থেকে ৫’শ থেকে ১হাজার টাকায় চুক্তিতে প্রতিটি গাছ থেকে কচিতাল ক্রয় করে বিভিন্ন বাজার ও রাস্তার মোড়ে তালের শাঁস বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছি। তবে বর্তমানে তাল গাছ কমে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে তাল ক্রয় করে আনতে হয়। থানা ব্রিজ এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ মুসা খান বলেন, গাছ থেকে ছোট বড় বিভিন্ন আকারের কঁচি তাল গড়ে ক্রয় করি। আকার অনুযায়ী একটি তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করি।

বর্তমানে তালশাঁস এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় সন্ধ্যার পরেও থানা ব্রিজের উপর বিক্রি করি। মৌসুমী ফল মুখরোচক হ‌ওয়ায় কম পুঁজিতে ভালো বেচাকেনা হওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসাঃ ফাতেমা জাহান বলেন, মৌসুমী ফল তালের শাঁস একটি লোভনীয় খাবার। তাই ছেলেমেয়েদের জন্য জনতা কলেজ মোড় থেকে প্রায় ক্রয় করি। তবে অন্য বৎসরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি। দক্ষিণ মুরাদিয়ার মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, তাল শাঁস একটি সুস্বাদু মজাদার খাবার তাই লোভ সামলাতে না পেরে পরিবারের জন্য ২০টা কচি তাল ৪’শ টাকায় ক্রয় করেছি। ছেলে-মেয়ে খুব খুশি হবে, কারণ তারা পানিতে তালা পছন্দ করে।
আগেকার দিনে গ্রামাঞ্চলের বসতবাড়ির আশপাশে ভিটা-পুকুর পাড়ে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে তালগাছ দেখা গেলেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়াও বজ্র নিরোধক হিসেবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তালবীজ বপন কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, তালশাঁসের প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ, পানি রয়েছে। এছাড়া এতে অনেক আঁশ রয়েছে। গরম শরীরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তালের শাঁস খাওয়া ভালো।

জনপ্রিয় সংবাদ

চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

প্রচন্ড গরমে স্বস্তি দিচ্ছে তালের শাঁস, দুমকিতে বেড়েছে বিক্রি

প্রকাশিত : ০৫:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার হাট বাজার গুলোতে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল তালের শাঁস বিক্রি। রেদের তীব্র তাপে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে তাল শাঁসের কদর বেড়েছে। সহজলভ্য ও মুখরোচক হওয়ায় এসময় নানা বয়সের মানুষের পছন্দের তাল শাঁসে। অন্যদিকে দিন দিন বাড়ছে বজ্রপাত ও কমছে তালগাছ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দুমকি বাজার, নতুন বাজার, থানা ব্রীজ, লেবুখালী পাগলা গোল চত্বর এলাকা, বোর্ড অফিস বাজার, তালুকদার বাজার, পাংগাসিয়া মাদ্রাসা ব্রীজ, আঙ্গারিয়া বন্দর, চরগরবদি ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন মোড়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ও শীতকালের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করছে তালের শাঁস। অন্যদিকে উৎসুক নানা শ্রেণীপেশার মানুষ ভীড় জমিয়ে আগ্রহের সঙ্গে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে অথবা খাচ্ছে। উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের মৌসুমী তাল ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, এই মৌসুমে বাড়তি আয়ের জন্য বিভিন্ন এলাকায় থেকে ঘুরে গাছ মালিকদের কাছ থেকে ৫’শ থেকে ১হাজার টাকায় চুক্তিতে প্রতিটি গাছ থেকে কচিতাল ক্রয় করে বিভিন্ন বাজার ও রাস্তার মোড়ে তালের শাঁস বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছি। তবে বর্তমানে তাল গাছ কমে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে তাল ক্রয় করে আনতে হয়। থানা ব্রিজ এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ মুসা খান বলেন, গাছ থেকে ছোট বড় বিভিন্ন আকারের কঁচি তাল গড়ে ক্রয় করি। আকার অনুযায়ী একটি তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করি।

বর্তমানে তালশাঁস এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় সন্ধ্যার পরেও থানা ব্রিজের উপর বিক্রি করি। মৌসুমী ফল মুখরোচক হ‌ওয়ায় কম পুঁজিতে ভালো বেচাকেনা হওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসাঃ ফাতেমা জাহান বলেন, মৌসুমী ফল তালের শাঁস একটি লোভনীয় খাবার। তাই ছেলেমেয়েদের জন্য জনতা কলেজ মোড় থেকে প্রায় ক্রয় করি। তবে অন্য বৎসরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি। দক্ষিণ মুরাদিয়ার মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, তাল শাঁস একটি সুস্বাদু মজাদার খাবার তাই লোভ সামলাতে না পেরে পরিবারের জন্য ২০টা কচি তাল ৪’শ টাকায় ক্রয় করেছি। ছেলে-মেয়ে খুব খুশি হবে, কারণ তারা পানিতে তালা পছন্দ করে।
আগেকার দিনে গ্রামাঞ্চলের বসতবাড়ির আশপাশে ভিটা-পুকুর পাড়ে রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে তালগাছ দেখা গেলেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়াও বজ্র নিরোধক হিসেবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তালবীজ বপন কার্যক্রম চলমান থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, তালশাঁসের প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ, পানি রয়েছে। এছাড়া এতে অনেক আঁশ রয়েছে। গরম শরীরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তালের শাঁস খাওয়া ভালো।