ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

ঠিকাদার-এমডির যোগসাজশে দেড় কোটি টাকার কাজ ২ কোটি ৩০ লাখে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট, প্রতিযোগী ঠিকাদারদের বাধা দেওয়া এবং অতিরিক্ত দর নির্ধারণের অভিযোগ তুলেছেন টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ঠিকাদার।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জিএম কমার্শিয়াল পছন্দের দুই ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজ আরও ৮০ লাখ টাকা বেশি দরে, অর্থাৎ দুই কোটি ৩০ লাখ টাকায় দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে রোববার দুপুরে সিইউএফএলের প্রশাসনিক ভবনে ঠিকাদারদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার শিডিউল ক্রয় করলেও আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টিকে টেন্ডার জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিতে সক্ষম হয়।

অভিযোগকারী ঠিকাদারদের দাবি, টেন্ডার জমা দিতে গেলে প্রভাবশালী একটি পক্ষের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের বাধা দেন। এই সুযোগে আওয়ামী লীগপন্থি এক ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত সিইউএফএল দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারখানা। এখানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার একশ টন ইউরিয়া ও ছয়শ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন হয়। উৎপাদিত সার বস্তাবন্দি ও সেলাইয়ের কাজের জন্য প্রতি বছর বেসরকারি ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ৩ মে ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রথমে ১৮ মে দরপত্র জমার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২৪ মে করা হয়। শেষ দিনে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সংঘবদ্ধ একটি চক্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার জমা দিতে দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

জানা গেছে, শাহ মোহছেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেয়। এসময় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো টেন্ডার জমা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়ে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

দরপত্র জমা দিতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নুর ট্রেডার্স, ব্রাদার্স করপোরেশন ও আর এ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, কারখানার দুই শীর্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছে। তাদের দাবি, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সরকারি টেন্ডার ই-জিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলেও সিইউএফএলে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ। সকল প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারলে আরও কম দরে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হতো বলেও তারা দাবি করেন।

ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা বলেন, দেড় কোটি টাকায় কাজটি করতে আগ্রহী ঠিকাদারও ছিল। কিন্তু মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এখন প্রায় ৮০ লাখ টাকা বেশি দরে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

এ ছাড়া, তারা আরও অভিযোগ করেন, মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে টেন্ডারটি কার্যত প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়েছে এবং এর আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিআইসিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তারা।

টেন্ডার জমা দেওয়ার বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বক্সটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কে ফেলছে কে ফেলে নাই সেটি তো আমার দেখার বিষয় নয়।

এসময় তিনি, অনলাইন টেন্ডারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এসব বিষয়ে কথা বলতে বিসিআইসির পরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠিকাদার-এমডির যোগসাজশে দেড় কোটি টাকার কাজ ২ কোটি ৩০ লাখে

প্রকাশিত : ১২:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট, প্রতিযোগী ঠিকাদারদের বাধা দেওয়া এবং অতিরিক্ত দর নির্ধারণের অভিযোগ তুলেছেন টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ঠিকাদার।

অভিযোগ রয়েছে, কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জিএম কমার্শিয়াল পছন্দের দুই ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজ আরও ৮০ লাখ টাকা বেশি দরে, অর্থাৎ দুই কোটি ৩০ লাখ টাকায় দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে রোববার দুপুরে সিইউএফএলের প্রশাসনিক ভবনে ঠিকাদারদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার শিডিউল ক্রয় করলেও আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টিকে টেন্ডার জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিতে সক্ষম হয়।

অভিযোগকারী ঠিকাদারদের দাবি, টেন্ডার জমা দিতে গেলে প্রভাবশালী একটি পক্ষের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের বাধা দেন। এই সুযোগে আওয়ামী লীগপন্থি এক ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত সিইউএফএল দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারখানা। এখানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার একশ টন ইউরিয়া ও ছয়শ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন হয়। উৎপাদিত সার বস্তাবন্দি ও সেলাইয়ের কাজের জন্য প্রতি বছর বেসরকারি ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ৩ মে ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রথমে ১৮ মে দরপত্র জমার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২৪ মে করা হয়। শেষ দিনে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সংঘবদ্ধ একটি চক্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার জমা দিতে দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

জানা গেছে, শাহ মোহছেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেয়। এসময় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো টেন্ডার জমা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়ে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

দরপত্র জমা দিতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নুর ট্রেডার্স, ব্রাদার্স করপোরেশন ও আর এ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, কারখানার দুই শীর্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছে। তাদের দাবি, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সরকারি টেন্ডার ই-জিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলেও সিইউএফএলে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ। সকল প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারলে আরও কম দরে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হতো বলেও তারা দাবি করেন।

ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা বলেন, দেড় কোটি টাকায় কাজটি করতে আগ্রহী ঠিকাদারও ছিল। কিন্তু মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এখন প্রায় ৮০ লাখ টাকা বেশি দরে কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

এ ছাড়া, তারা আরও অভিযোগ করেন, মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে টেন্ডারটি কার্যত প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়েছে এবং এর আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিআইসিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তারা।

টেন্ডার জমা দেওয়ার বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বক্সটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কে ফেলছে কে ফেলে নাই সেটি তো আমার দেখার বিষয় নয়।

এসময় তিনি, অনলাইন টেন্ডারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এসব বিষয়ে কথা বলতে বিসিআইসির পরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।